ইটালির একটি নামকরা মদের কারখানা থেকে চুরি গেল প্রায় ৩০,০০০ বোতল ওয়াইন। বলা হচ্ছে, ইটালির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ওয়াইন চুরির ঘটনা এটিই। জানা গিয়েছে, চুরি হওয়া ওয়াইনের মূল্য প্রায় ৫৮ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা)।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, যদিও অপরাধটি শনিবার রাতে সংঘটিত হয়েছিল, কিন্তু কর্মীরা সোমবারই তা জানতে পারেন। কারণ রবিবার কারখানাটি বন্ধ ছিল। সোমবার রফতানির জন্য ওয়াইন তৈরি করতে কারখানায় গিয়ে তাঁরা দেখেন হাজারে হাজারে ওয়াইনের বোতল লুট হয়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত সপ্তাহান্তে সাত জন দুষ্কৃতী এই ছিনতাইয়ের কাজটি ঘটায়। কর্টোনায় অবস্থিত মার্চেসি আন্তিনোরির আঙুরখেত ছিল তাদের হামলার লক্ষ্য। বিপদঘণ্টি এবং সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো করে দেয় তারা। এর পর ওয়াইনারিটির (মদ তৈরির কারখানা) নিজস্ব দু’টি ট্রাকেই (ফর্কলিফট) ব্যবহার করে বোতল বোঝাই করে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। তাদের প্রত্যেকের মুখে ছিল মুখোশ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকেই শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তারা বেশ সমস্যায় পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
‘১০নিউজ়এইউ’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে ঘটনাটি সম্পর্কে জানা গিয়েছে। যদিও ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
খবর, যে ওয়াইনের বোতলগুলি চুরি হয়েছে, সেগুলির দাম ১৫০ (ভারতীয় মুদ্রায় ১৫ হাজার টাকা) থেকে ৫০০ ইউরো (ভারতীয় প্রায় ৫৫ হাজার টাকা)। এগুলির মধ্যে সোলাইয়া, টিনিয়ানেলো এবং গুয়াদো আল তাসো প্রভৃতি ছিল। ১৩৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মদের কারখানাটি। এখন এই কারখানার দায়িত্বে রয়েছেন রেনজো কোতারেলা। তিনি কারখানাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের ২৬তম প্রজন্ম।
সাম্প্রতিক সময়ে ইটালির বিভিন্ন মদের কারখানায় প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। গত জুলাইয়েও পিডমন্টের বানফি ওয়াইনারি থেকে ৩,০০০ বোতল আল্টা লাঙ্গা চুরি হয়েছে। কিন্তু কোতারেলা কখনও কল্পনাও করেননি যে তাঁর কারখানায় এত বড় চুরির ঘটনা ঘটবে। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হল, কারখানাটির বিমায় এত বিপুল মূল্যের ওয়াইন চুরির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই। যদিও পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে, রাস্তায় বসানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো থেকে ট্রাকগুলোর গতিবিধি জানতে পারা যাবে। সব ক’টি বোতল উদ্ধার করা না গেলেও বেশির ভাগটাই যাবে বলে মনে করছে তারা। পুলিশ ভিডিয়ো ফুটেজ এবং প্রমাণ খতিয়ে দেখছে। অপরাধীদের খুঁজে বার করতে তল্লাশি অভিযানও চলছে।
