- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: অযোধ্যার রাম মন্দির যাঁরা এখনও দেখেননি সেই সব ভক্তদের জন্য সুখবর। মহেশতলার বাটানগর নিউল্যান্ড পুজো কমিটির এবারের মণ্ডপ তৈরি হয়েছে হুবহু অযোধ্যার রাম মন্দিরের আদলে। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের শিল্পকলা থেকে তার রং– সবটাই এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মন্দিরের কাঠামো এতটাই বিশাল যে, তা দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। আর এই মণ্ডপের শিল্পকলাও অসাধারণ। কাঁথির কারিগররা গত কয়েক মাস ধরে নিরলস পরিশ্রম করে এমন কাজ করেছেন।
প্রতিমা তৈরি করেছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত সনাতন রুদ্র পাল। এবার পুজোটি ৮০ তম বর্ষে পা দিল। নিউল্যান্ডের রাম মন্দিরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড-এর চোখ ধাঁধানো কসরত দেখা যাবে। মৌ ইলেকট্রিক তৈরি করেছে এই আলো আর শব্দের খেলা। ভিতরে ঢুকলে নানা ধরনের সাজ, বিশাল বড় ঝাড়বাতির দেখে চমকে যেতে হবে। অযোধ্যার রাম মন্দিরে যেভাবে রামের কালো কষ্টি পাথরের মূর্তি রয়েছে, এখানেও সেইভাবেই তৈরি করে বসানো হয়েছে রামকে। এছাড়া মা দুর্গার প্রতিমা আলাদা বসানো হয়েছে। পৌনে দু’কোটি টাকার এই পুজো এবারের জেলার সেরা পুজো বলে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।
নিউল্যান্ড আমরা সবাই পুজো কমিটির ভাবনা হল ‘অপরাজিতা কে’? পুজোটি ১৯ বছরে পা দিল। কমিটির মুখপাত্র জয়ন্ত সাহা বলেন, সমাজে নানা ঘাত প্রতিঘাতের ভিতর নিয়ে অপরাজিতারা সময় লড়াই করছেন। নানা মডেলের মাধ্যমে সেই সব লড়াইয়ের ছবি মণ্ডপের গায়ে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ডানা মেলে উড়ে যাওয়া পরীকে দেখানো হয়েছে অপরাজিতা হিসাবে। মহেশতলা দীপাঞ্জলির পুজো এবার ১৭ বছরে পা দিল। পুজোর ভাবনা অকাল বোধন। রামচন্দ্র অকাল বোধনের জন্য ১০৮টি পদ্মফুল এনে রেখেছিলেন। কিন্তু মা দুর্গা তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য একটি পদ্ম সরিয়ে নেন। রামচন্দ্র তখন তীর দিয়ে নিজের চোখের মণি তুলে মায়ের সামনে দেওয়ার চেষ্টা করেন। মা তখন ধরা দেন। কমিটির মখপাত্র পিন্টু ভট্ট বলেন, সেই দৃশ্যপটকে রেখেই মা দুর্গার সামনে রাম, লক্ষণ ও হনুমানের বিনীত মূর্তি দেখা যাবে। হুগলি থেকে নৌকা করে গঙ্গা পেরিয়ে প্রতিমা আনা হয়েছে। মণ্ডপের মাথা পদ্মফুলের আদলে করা। নুঙ্গি ছাত্র সংঘ সর্বজনীন পুজোর স্থায়ী মন্দির রয়েছে। এবারে এটি ৭০ বছরে পা দিল। প্রতিমা সাবেকি ঘরনার। তৈরি করেছেন রাখাল পাল অ্যান্ড সন্স।
