জাপান সাগরে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া।
আজ সোমবার দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ং এলাকা থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ৯০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও অন্তত একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে সম্ভাব্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের আশঙ্কায় নজরদারি বাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
এএফপি জানায়, দুই কোরিয়ার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা চলছে। গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্তে বলা হয়, মাইনগুলো উত্তর কোরিয়া পুঁতেছিল। তবে পিয়ংইয়ং এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এর আগে ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া একটি মধ্যমপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি নিচু উচ্চতায় উড্ডয়নের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়াও সম্প্রতি নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হাইপারসনিক গ্লাইডেড ভেহিকলের সফল পরীক্ষা চালানোর কথা জানিয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে দক্ষিণ কোরিয়াকে দেশটির প্রতি ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কিম ইয়ো জং।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উদ্যোগে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া সেই প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়তে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এএফপি জানায়, ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধের অবসান হলেও কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
