সারা দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগুর পক্ষে সওয়াল করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা। উত্তরপ্রদেশ সফরে সাংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানালেন, দেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের মহিলারাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার। ফলে বহু বিবাহের মতো সমস্যা সমাধানে অভিন্ন আইনের প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, দিল্লিতে ককরোচ পার্টির আন্দোলনের সমালোচনায় সরব হতে দেখা গেল তাঁকে।
রবিবার সন্ধ্যায় উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হিমন্ত বলেন, “ইতিমধ্যেই অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি জারি করা হয়েছে। এটি সারা দেশে লাগু হওয়া উচিত। এর অভাবে মুসলিম মহিলারা সবচেয়ে বেশি ভোগেন।” তাঁর কথায়, বহুবিবাহের মতো প্রথা বন্ধ করতে একটাই আইন দরকার। হিমন্ত বলেন, “সভ্য সমাজে একজন মানুষ তিন-চারটে বিয়ে করবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
হিমন্ত বলেন, “সভ্য সমাজে একজন মানুষ তিন-চারটে বিয়ে করবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর বিরোধিতা এবং ‘ক্ষমতা পরিবর্তনের’ দাবিতে ককরোচ পার্টির সঙ্গে সরব হয়েছে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সেই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতা আসে নির্বাচনের মাধ্যমে, কোনও গা-জোয়ারিতে নয়। যারা ভয় দেখিয়ে সরকার বদলানোর স্বপ্ন দেখছে, তারা বাংলাদেশ আর নেপালের দিকে তাকাক।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “দিল্লিতে হওয়া ওই বিক্ষোভে মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিলেন।” ফলে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার মতো কিছু নেই বলে মনে করেন হিমন্ত।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই অসম বিধানসভায় পাশ হয়েছে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ বিল। এর ফলে প্রথম বিয়ে আইনিভাবে বিচ্ছেদ না করে দ্বিতীয় বিয়ে করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। আগের বিয়ে গোপন করে বিয়ে করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। যারা জেনেশুনে এই ধরনের বহুবিবাহ সম্পন্ন করাবেন, তাঁদের সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ও কারাদণ্ড হতে পারে। পুলিশ বা প্রশাসনকে তথ্য না জানালে বা দেরি করলে ২ বছর পর্যন্ত জেল ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে।
