সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তাদের মরদেহ দেশে আসার একটি ভিডিও এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি ‘স্বামী-স্ত্রী ছিলেন’ এবং ‘তারা হানিমুনের পরিবর্তে ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন’ বলে একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে, এই দাবিগুলোর সত্যতা পায়নি কালবেলা।
জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায়। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে সৌদি আরবে পাড়ি জমান কৃষক পরিবারের সন্তান নজরুল ইসলাম (২২)। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ।
অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে। পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোট সুইটি আক্তার ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরবে যান। পরে সেখানে তিনিও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
জানা যায়, প্রবাস জীবনের আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সুইটি আক্তার। কিন্তু, তার বিবাহিত জীবন তেমন দীর্ঘ হয়নি।
যা বলছে পরিবার
নজরুল ইসলামের বাবা আবদুল বাছির কালবেলাকে বলেছেন, ‘২০২২ সালে ৭ লাখ টাকা ঋণ করে নজরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার একমাস পর মক্কার হেরাম শরিফে সে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পায়। তবে, ৭/৮ মাস পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রায় দেড়মাস পর নজরুল সেদেশের জেল থেকে আমাকে ফোন দিয়ে জানায় সে সেখানে কারাবন্দি। তবে, কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে সে এই বিষয়ে কিছু জানায়নি কিংবা আমরাও জানি না। প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে সে কারাগারে ছিল। গত রোববার সে আমাকে ফোন দেয়। সে জানায় সে সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এটাই তার সঙ্গে আমার শেষ কথা। গত বুধবার শুনলাম নজরুলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমি এই বিষয়ে আর কিছু বলতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমার ছেলের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘নজরুল অবিবাহিত ছিল। মেয়েটি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।’
সুইটির বড় বোন বিউটি আক্তার কালবেলাকে বলেন, ‘পরিবারের সুখের জন্য ২০২৩ সালে দালালের মাধ্যমে বোনকে সৌদি পাঠায় বাবা। সে সময় খরচ যোগাতে অনেক ঋণও করা হয়েছিল। সুইটি মক্কা শরিফ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করত। ছয় মাস পরে শুনি সে জেলে। কী কারণে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে তা কোনোদিন সে বলেনি। সবসময় বলতো আমি ভালো আছি, কোনো চিন্তা করো না। শেষবার যখন কথা হয়েছিল তখনও বলেনি যে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। ওই ছেলের সম্পর্কে আমরা এখনই জানলাম।’
এই প্রতিবেদনটি তৈরি করতে সহযোগিতা করেছেন কালবেলার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মো. শাহ আলম ও মির্জাপুর প্রতিনিধি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
