কুড়িগ্রামের রৌমারীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজা ফারুক হোসেনের লাঠির আঘাতে সোনাভানু (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারবান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত সোনাভানু ওই গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফারুকের মা ধলী বেওয়া (৬০) ও চাচা খলিল মিয়া (৪৮)। তবে অপর আহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের মৃত জয়নাল জোয়ারদারের ছেলে ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। দুই মাস আগে ছুটিতে দেশে ফেরার পর তিনি আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের ভাষ্য, গত তিন-চার দিন ধরে তাঁর আচরণেও অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছিল।
শুক্রবার দুপুরে মাদকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মায়ের সঙ্গে ফারুকের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি মাকে মারধর শুরু করেন। এ সময় চাচি সোনাভানু তাঁদের থামাতে এগিয়ে গেলে ফারুক তাঁকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সোনাভানুর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ওই গ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ফারুক আগে থেকেই মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। কয়েক দিন ধরে তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছিল। তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার আগেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এমএ
