ঘটি না বাঙাল? বাঙালির চিরপরিচিত এই দ্বন্দ্ব যখন এসে পড়ে রান্নাঘরে, তখন স্বাদে-আড্ডায় জমে ওঠে লড়াই। সোনি আট-এর জনপ্রিয় রান্নার রিয়্যালিটি শো ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’-র আসন্ন পর্বগুলিতে দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে এমনই এক মজাদার চমক। ঘটি-বাঙাল টক্কর, মিস্ট্রি ব্যাগের চ্যালেঞ্জ, আর তার পরেই আচমকা টিম বদল! নতুন পার্টনারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগীদের মুখোমুখি হতে হবে কঠিন এলিমিনেশন রাউন্ডেরও।
ঘটি-বাঙাল পর্বের শুরুতেই থাকছে ‘মিস্ট্রি ব্যাগ’ চ্যালেঞ্জ। তার পরেই প্রতিযোগীদের রান্না করতে হবে বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় কিছু পদ। নিজেদের দলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে দুই পক্ষই যখন কোমর বেঁধে রান্নাঘরে নামবে, তখন খাবারের লড়াইয়ে স্বাভাবিকভাবেই জায়গা করে নেবে ঘটি-বাঙালের চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই টক্করে বাড়তি মজার রসদ জোগাবেন কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টোরাজ মল্লিক। বাস্তব জীবনের দাম্পত্যের রসায়ন, খুনসুটি আর মজার কথোপকথনে আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে পর্বটি।
তবে এই লড়াই শুধু স্বাদে বা রান্নার দক্ষতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। উঠে আসবে ‘সোল ফুড’-এর প্রসঙ্গও। এমন কিছু খাবার থাকে, যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ছোটবেলার স্মৃতি, আবেগ আর বাড়ির চেনা গন্ধ। কোনও বিশেষ পদের স্বাদ কখনও ফিরিয়ে আনে ফেলে আসা দিন, কখনও মনে করিয়ে দেয় পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত। খাবারের সঙ্গে মানুষের এই গভীর সম্পর্কও বিশেষ গুরুত্ব পাবে ঘটি-বাঙাল পর্বে।
কাঞ্চন মল্লিকের কথায়, “ঘটি-বাঙাল থিমটা আমার কাছে বিশেষভাবে মজার ছিল, কারণ দুই পরিচয়ের সঙ্গেই খাবারের একটা গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে। তার সঙ্গে একটু প্রতিযোগিতা যোগ হলেই ব্যাপারটা আরও জমে যায়! শ্রীময়ীর সঙ্গে কাজ করাটা সবসময়ই একটু অন্যরকম, কারণ আমরা একে অপরকে এত ভালোভাবে চিনি যে খুনসুটি এমনিতেই চলে আসে। তবে টিম আর রান্নার ব্যাপারে আমাদের ব্যক্তিগত সমীকরণ কখনওই প্রতিযোগিতার পথে আসতে দিইনি।”

শ্রীময়ী চট্টোরাজ মল্লিকও জানিয়েছেন, রান্নার মধ্যে ঘটি-বাঙাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বাভাবিকভাবেই চলে আসায় পর্বটি আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল। তাঁর কথায়, “এই পর্বটাকে এত মজার করে তুলেছিল রান্নার মধ্যে ঘটি-বাঙাল প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা যেভাবে স্বাভাবিকভাবেই চলে এসেছিল। খাবার কত স্মৃতি আর আবেগ ফিরিয়ে আনে! আর ঘটি-বাঙাল এমন একটা বিষয়, যেটা আমরা সবাই বাড়িতে ছোটবেলা থেকে আলোচনা করতে করতে বড় হয়েছি। কাঞ্চন আর আমি যখন দুই বিপরীত দলে ছিলাম, তখন মজাটা আরও বেড়ে গিয়েছিল"
‘সোয়াপ’ চ্যালেঞ্জে বদলে যাবে টিমের সমীকরণ। শুধু নতুন জুটি গড়ে রান্না করলেই চলবে না। সবচেয়ে কম স্কোর করা দলকে শেষ পর্যন্ত মুখোমুখি হতে হবে এলিমিনেশন রাউন্ডের। শো-এর সঞ্চালক অঙ্কুশ হাজরার কথায়, “এই শো-এর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, কখন যে একটা সাধারণ রান্নার চ্যালেঞ্জ অনেক বড় কিছুতে পরিণত হবে, সেটা কখনও আগে থেকে বোঝা যায় না। ঘটি-বাঙাল পর্বে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিত্ব আর আবেগ—দুটোই খুব সুন্দরভাবে সামনে আসে। তারপর সোয়াপ পুরো খেলাটাই বদলে দেয়! হঠাৎ যাঁরা নিজেদের পার্টনারের সঙ্গে বেশ স্বচ্ছন্দ ছিলেন, তাঁদের নতুন করে একে অপরকে বুঝে নিতে হয়। আর তাতেই প্রতিযোগিতা আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। তবে সবচেয়ে বড় মুহূর্ত হল এলিমিনেশন। তখনই সবাই বুঝতে পারে, এই মজা আর খেলার মধ্যেও প্রতিযোগিতার চাপটা কিন্তু একেবারেই সত্যি।”
ঘটি-বাঙালের চেনা আবেগ, রান্নার নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ, পার্টনার বদলের অপ্রত্যাশিত মোড় আর এলিমিনেশনের টানটান উত্তেজনা—সব মিলিয়ে ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’-র আগামী পর্বগুলিতে বিনোদনের মাত্রা যে আরও বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
