বিমানবন্দর-কমলাপুর মেট্রোরেল প্রকল্পের চুক্তি প্যাকেজ-৩-এর আওতায় কমলাপুর, রাজারবাগ, মালিবাগ ও রামপুরা ভূগর্ভস্থ স্টেশনে ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের (এমআরটি লাইন-১) প্রকল্প পরিচালক মো. সারওয়ার উদ্দিন খান।
তিনি জানান, চুক্তি প্যাকেজ-৪-এর আওতায় নতুনবাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা ও আফতাবনগর ভূগর্ভস্থ স্টেশনে ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। এসব স্টেশনের মধ্যে উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা ও আফতাবনগরে ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি।
প্রকল্প পরিচালক জানান, চুক্তি প্যাকেজ-৬-এর আওতায় বিমানবন্দর, টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত স্টেশনে এবং প্যাকেজ-৫-এর আওতায় নর্দা স্টেশনে ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-১-এর নির্মাণকাজ ১২টি চুক্তি প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ প্রকল্পের দুটি রুটের বিস্তারিত সমীক্ষা, জরিপ, প্রাথমিক নকশা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের তথ্যে বলা হয়, এমআরটি লাইন-১-এর ১২টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইউটিলিটি লাইন ও সেবা স্থানান্তর করে একটি ‘ইউটিলিটি কমন করিডোরে’ নিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কাজ করছে।
নির্মাণকাজের আশপাশে সুষ্ঠু যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। অবশিষ্ট স্টেশনগুলোতে ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ মূল প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট প্যাকেজের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও কিছু কার্যক্রম আগামী বছরের অক্টোবর বা নভেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে উদ্বোধন করা দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১ রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে উচ্চ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে পরস্পর সংযুক্ত দুটি রুট রয়েছে।
এরমধ্যে ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ বিমানবন্দর রুটে ১২টি স্টেশন থাকবে। এ রুট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত করবে।
অন্যদিকে, ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্বাচল রুটে সাতটি উড়াল ও দুটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে। এ রুট নতুনবাজারকে পূর্বাচলের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।
প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন জমি ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এমআরটি লাইন-১ এবং ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের সংশোধিত বাজেট অনুমোদন করে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) প্রকল্প দুটিতে অর্থায়ন করছে।
এমআরটি লাইন-১ চালু হলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার নগর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, যানজট কমানো এবং নগর পরিবেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তি প্যাকেজ-১-এর আওতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পিতলগঞ্জ মৌজায় ৩৫ দশমিক ৯০ হেক্টর (৮৮ দশমিক ৭১ একর) জমিতে ডিপো নির্মাণের জন্য ভূমি উন্নয়নকাজ ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট সম্পন্ন হয়। এ কাজ ২০২৩ সালের ১ মার্চ শুরু হয়েছিল।
