ভারতীয় টিভি ধারাবাহিকের জনপ্রিয় মুখ মাহি ভিজ ও জয় ভানুশালি। কয়েক মাস আগে ১৪ বছরের সংসার জীবনের ইতি টেনেছেন এই তারকা দম্পতি। বিবাহবিচ্ছেদ হলেও খোরপোশের কোনো অর্থ নেননি মাহি।
বিতর্কিত টিভি রিয়েলিটি শো বিগ বসের বিশতম আসরে অংশ নিয়েছেন মাহি ভিজ। বিগ বসের ঘরে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। খোরপোশ বাবদ টাকা না নেওয়া, প্রাক্তন স্বামী ও সন্তান তারাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী।
মাহি ভিজ বলেন, “আমি খোরপোশ হিসেবে এক পয়সাও নিইনি। এমনকী, ভরণপোষণের অর্থও চাইনি। আমি আমার যোগ্যতায় এখানে এসেছি। আমি চাই, আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকুক। এমন নয় যে, জয় আমাকে সাহায্য করতে চায় না। কিন্তু আমি কারো কাছে অর্থ চাইতে পারি না। এসব ওর নিজের পরিশ্রমে উপার্জন করা অর্থ।”
‘বালিকা বধূ’-এর মতো টিভি ধারাবাহিক যেমন উপহার দিয়েছেন, তেমনই মালায়ালাম, তেলেগু ও কন্নড় ভাষার সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন মাহি ভিজ
আদালতে দাঁড়ানোর পর বিচারকও মাহিকে খোরপোশের অর্থ নিতে বলেছিলেন। এ তথ্য স্মরণ করে মাহি ভিজ বলেন, “আমি যখন আদালতে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন বিচারক আমাকে চারবার বলেছিলেন—খোরপোশ বা ভরণপোষণের অর্থ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত যেন আবার ভেবে দেখি। তিনি বারবার বলেছিলেন, এই অর্থ নিতে। কিন্তু আমি নিইনি। কারণ জয় কঠোর পরিশ্রম করে এই অর্থ উপার্জন করেছে।”
প্রাক্তন স্বামী জয় সব রকম সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত। খোরপোশ ও ভরণপোষণের অর্থ দিতেও তার কোনো আপত্তি নেই। এ বিষয়ে মাহি ভিজ বলেন, “এমন নয় যে কোনো কিছু চাইলে জয় আমাকে না করে দেবে। ওর পুরো লকারই আমার জন্য খোলা। কিন্তু এই অর্থ ওর নিজের পরিশ্রমের ফসল। ও প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা কাজ করে এই অর্থ উপার্জন করেছে।”
বাড়ির বাইরে গিয়ে জীবন উপভোগ করতেও উৎসাহ দিয়ে থাকেন জয়। এ তথ্য উল্লেখ করে মাহি ভিজ বলেন, “একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে, আমার দিনগুলো কীভাবে কাটে, তা আমি জানি। বাইরে বেরিয়ে নিজের মতো জীবন উপভোগ করতে জয় আমাকে উৎসাহিত করে। জয় বলে, তারার জন্য আমার কেবল ঘরে বসে থাকা উচিত নয়। কিন্তু আমার পুরো জীবনটা আমার সন্তানকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। আমি কোনো খোরপোশ (অ্যালিমোনি) নিইনি, বরং সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবকিছু নিজেই সামলেছি।”
বিবাহবিচ্ছেদ হলেও অভিনেতা জয়ের সঙ্গে এখনো অটুট মাহি ভিজের বন্ধুত্ব
মাহি-জয়ের বিববাহবিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে খবর রটেছিল—৫ কোটি রুপি খোরপোশ চেয়েছেন মাহি ভিজ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী বলেছিলেন, “আমার মতে, একজন পুরুষ যদি নিজে পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করে, তবে বিচ্ছেদের পর সেই অর্থে স্ত্রীর কোনো অধিকার নেই। খোরপোশ তখনই যুক্তিযুক্ত, যখন কোনো নারী সারাজীবন গৃহবধূ হিসেবে থেকেছেন এবং কখনো কাজ করেননি। কোনো নারী যদি কাজ করতে পারেন, তবে নিজেরই উপার্জন করা উচিত।”
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে যৌথভাবে বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন জয়-মাহি। এ বিবৃতিতে বলা হয়—“আজ আমরা জীবন নামে এক যাত্রায় আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তবে আমরা একে অপরের পাশে থাকব।”
আলাদা হয়ে গেলেও সন্তানদের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার কথা ব্যক্ত করেন জয়-মাহি। এ তথ্য জানিয়ে বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের সন্তান তারা, খুশি ও রাজবীরের স্বার্থে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সেরা বাবা-মা, সেরা বন্ধু এবং যা কিছু প্রয়োজন—তাদের জন্য তাই হয়ে ওঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে আমরা তাদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি।”
কন্যা তারা ও প্রাক্তন স্বামী জয়ের সঙ্গে অভিনেত্রী মাহি ভিজের অবকাশ যাপনের মুহূর্ত, সময়ের সঙ্গে এসবই এখন স্মৃতি
জয়-মাহির বিবাহবিচ্ছেদে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির প্রভাব নেই। বিষয়টি পরিষ্কার করে বিবৃতিতে বলেন, “যদিও আমরা আলাদা পথে হাঁটছি, তবে এই গল্পে কোনো খলনায়ক নেই। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনো নেতিবাচকতা জড়িয়ে নেই। কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে দয়া করে জেনে রাখুন, আমরা নাটকের বদলে শান্তি এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানসিক সুস্থতাকেই বেছে নিয়েছি।”
কাগজে-কলমে স্বামী-স্ত্রী না থাকলেও সম্মান ও বন্ধুত্ব বজায় রাখার কথা জানান জয়-মাহি। তারা বিবৃতিতে বলেন, “আমরা একে অপরকে সম্মান করে যাব, একে অপরকে সমর্থন করব এবং আগের মতোই বন্ধু থাকব। পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে আপনাদের কাছ থেকে সম্মান, ভালোবাসা ও সদয় আচরণ কামনা করছি।”
প্রাক্তন স্বামী জয় ও বায়োলজিক্যাল কন্যা তারা, দত্তক পুত্র-কন্যা রাজবীর ও খুশির সঙ্গে মাহি ভিজের আনন্দঘন মুহূর্ত
২০১১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মাহি ভিজ ও জয় ভানুশালি। খুব ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করেন তারা। এ দম্পতির ‘তারা’ নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০১৭ সালে রাজবীর ও খুশি নামে দুই সন্তান দত্তক নেন এই দম্পতি।
*ইন্ডিয়া টুডে, এএনআই অবলম্বনে
