ভালোবাসাকে একসময় বিশ্বাসই করতেন না দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় দেবরাকোন্ডা। ক্যারিয়ার, অর্থ ও সাফল্য অর্জনই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজের বাইরে অন্য কিছুতে মনোযোগ দেওয়াকে মনে করতেন লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে বাধা। তবে অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পর বদলে যায় তাঁর সেই ধারণা। সম্প্রতি ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে একসঙ্গে হাজির হয়ে প্রেম ও বিয়ে নিয়ে নিজেদের ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই তারকা জুটি।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক করণ জোহরের সঙ্গে আলাপচারিতায় বিজয় স্বীকার করেন, অতীতে ভালোবাসা নিয়ে তাঁর অবিশ্বাস ছিল অপরিণত মানসিকতার পরিচয়। জীবনে এত সুন্দর ভালোবাসা পাওয়ার পরও একসময় তিনি ভালোবাসার ধারণাকেই অবজ্ঞা করতেন। উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল যে ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত উন্নতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই, এমন সবকিছু থেকেই দূরে থাকতে চাইতেন তিনি।

কিন্তু রাশমিকার সঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে বদলে যায় বিজয়ের উপলব্ধি। অভিনেতা জানান, প্রথমে রাশমিকার প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়, পরে সেই অনুভূতি নির্ভরতায় রূপ নেয়। রাশমিকা পাশে থাকলে তাঁর দিন ভালো কাটত, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়ায় খাবার আরও সুস্বাদু মনে হতো, এমনকি ঘুমও ভালো হতো। একসময় বিজয় বুঝতে পারেন, রাশমিকাকে শুধু ভালো লাগাই নয়, জীবনসঙ্গী হিসেবেও চান তিনি।
তবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে তাড়াহুড়ো করেননি বিজয়। তাঁর মতে, বিয়ে জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। শুধু আবেগের বশে নয়, সুখ-দুঃখ, ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন ও কঠিন সময়েও সম্পর্কের গুরুত্ব অটুট থাকে কি না, তা বুঝতে চেয়েছিলেন তিনি।
বিজয় জানান, রাশমিকা প্রায় এক বছর ধরে তাঁকে বিয়ের বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে, তিনিও সম্পর্কটিকে বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচাই করেছেন। সব অবস্থায় একসঙ্গে থাকার ইচ্ছা অটুট থাকলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই অভিনেতা।
২০১৮ সালে ‘গীতা গোবিন্দম’ সিনেমায় প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেন বিজয় ও রাশমিকা। পরে ‘ডিয়ার কমরেড’ ছবিতেও জুটি বাঁধেন তাঁরা। পর্দার এই জুটির সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের মধ্যে আলোচনা ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে তেলুগু ও কোডাভা ঐতিহ্য মেনে বিয়ে করেন বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। এবার ভালোবাসা ও বিয়ে নিয়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশের মধ্য দিয়ে সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরেছেন তাঁরা।
সুত্র-হিন্দুস্তান টাইমস
এমএম/
