চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে। পাশাপাশি তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ তথ্য দিয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মঙ্গলবার সোনা ও হীরা চোরাচালন এবং অর্থ পাচারের মামলায় তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
এরপর তাকে উত্তরা পশ্চিম থানার হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো এবং রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সুমন মিয়া।
১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে করা আবেদনে বলা হয়, দিলীপ আগরওয়ালা অন্য আসামিদের সঙ্গে মামলার ঘটনাস্থলে সশরীরে উপস্থিত থেকে ‘এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে’।
আবেদনে বলা হয়, মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার, তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ ও ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে তাকে ১০ দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড শুনানিতে বলেন,
“এ ঘটনায় দিলীপ আগরওয়ালার ভূমিকা রয়েছে এবং তিনি অর্থ জুগিয়েছেন।”
আসামি পক্ষে আনোয়ারুল কবীর বাবুলসহ কয়েকজন আইনজীবী শুনানি করেন। রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর ও দিলীপ আগরওয়ালার জামিন প্রার্থনা করেন তারা।
আনোয়ারুল কবীর বলেন, “আসামি শারীরিকভাবে অসুস্থ, হার্টের সমস্যা রয়েছে। তাকে পূজামণ্ডপ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্মীয় বিষয় ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমরা তার জামিন প্রার্থনা করছি।”
এ আইনজীবী বলেন, “ঘটনার সময় আসামি বিদেশে অবস্থা করেছিলেন। পূর্বের বেশ কয়েকটি মামলায় জামিন পেয়ে পলাতক হননি। দেশেই অবস্থান করছিলেন। আসামিকে হয়রানি করার জন্য এই মামলা দেওয়া হয়েছে।”
মামলার বিবরণী বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট উত্তরা পশ্চিম থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তিনি বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম রয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল তখনকার র্যাব। সেদিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায় র্যাব।
পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। নেওয়া হয় রিমান্ডেও। এসব মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।
