নতুনপাতা
শারদ ১৪৩৩
মণ্ডা মিঠাই
বাঙালির দুর্গাপুজো
অরিন্দম মুখোপাধ্যায়
১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
সেই ছোট্টবেলা থেকেই উপলব্ধি করে এসেছি যে, দুর্গা ঠাকুর বাঙালির কাছে যত না দেবী, তার থেকে বেশি মা ও মেয়ে। বৎসরান্তে দুগ্গা মা চার ছেলেমেয়ে নিয়ে মর্ত্যে অর্থাৎ বাপের বাড়ি আসেন, চারটি দিন কাটিয়ে আবার কৈলাসে অর্থাৎ স্বামীর গৃহে ফিরে যান। নিজেদের মেয়ে যেমন অনেকদিন পর বাপের বাড়ি এলে একটা আনন্দানুভূতি হয়, হৈ হৈ ব্যাপার হয়, পুজোর চারদিন যেন বাঙালি পরিবারগুলিতে সেই সুখানুভূতি বোধ হয়। খাওয়া দাওয়া, নতুন জামাকাপড়, আলোর রোশনাই এলাহি ব্যাপার মাকে বরণ করার জন্য। সারা বছরের দুঃখ, গ্লানি সব দূরে ঠেলে মানুষ মেতে ওঠে উৎসবে। শুধু বাঙালিই বা বলি কেন, দুর্গোৎসব এখন ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার। এমনই এর মহিমা।
আগমনী গানগুলিতে দুর্গাকে বলা হয় উমা। উমার বাপের বাড়ি আসা নিয়ে কত বর্ণনা গানগুলিতে! পুজো আসছে আসছে ভেবেই কত আনন্দ! চারদিন ধরে সেই আনন্দ ওঠে তুৃঙ্গে। তারপর দশমীর দিন বিসর্জনের করুণ সুর ভারাত্রান্ত করে তোলে বাচ্চাবুড়ো সবার হৃদয়। ঠিক যেমন নিজের বাড়ির মেয়ে পতিগৃহে ফেরার সময় মনের অবস্থা হয় মা, বাবা,ভাই, বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের, ঠিক তেমন। আবার এক বছরের অপেক্ষা উমার আসার জন্য। এই আনন্দটুকু আছে বলেই সারা বছরের জীবন সংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত সামলে মানুষ এগিয়ে যেতে পারে।
এই আনন্দটুকু বেঁচে থাক। ধর্মের, তত্ত্বের কচকচানি যেন আমাদের আনন্দে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়! কারো নিদান নয়, আমাদের আনন্দ আমরা নিজেদের মতোই উদযাপন করব। রক্ষা করব পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি।
