উৎসবের মরসুম। মিষ্টিমুখ ছাড়া বাঙালিদের সব উদ্যাপনই যেন ফিকে। দশমী মিটতেই লক্ষ্মী পুজো। পাতে পড়বে রসগোল্লা থেকে নাড়ু, আরও কত কী! এমন সময়ে ডায়াবেটিকদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। পুজোর দিনে ডায়েটে সামান্য অনিয়ম তো হবেই, সে ক্ষেত্রে কী ভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে সুগার? পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ আশিস মিত্র।
আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মিষ্টি খাওয়া যেতেই পারে। কিন্তু সেই দিন অন্যান্য শর্করা জাতীয় খাবার কমিয়ে আনা উচিত। ভাত হয়তো কম খাওয়া হল। অথবা আলুটা বাদ দেওয়া হল সেদিনের জন্য। পরিবর্তে আমরা প্রোটিন বেশি খেতে বলি। একজন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে প্লেটে থাকা উচিত ৩৫-৪০ শতাংশ প্রোটিন, ৫০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট এবং দশ শতাংশ ফ্যাট। উৎসবের দিনগুলিকে এর মাত্রাগুলির মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা খুব জরুরি।”
পুজোর দিনে মিষ্টিমুখ তো হবেই। এই অভ্যাসে লাগাম টানতে না পারলে বিশেষত ডায়াবেটিকদের জন্য বাজারে সহজেই উপলব্ধ রয়েছে চিনি ছাড়া মিষ্টি। তবে চিকিৎসকের মতে, “এই ধরনের মিষ্টি এড়িয়ে চলাই উচিত। এর মধ্যে অনেক সময় স্যাকারিন মেশানো হয়। যা শরীরে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে।”
পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ এক উপায় হল খাওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য হাঁটাহাঁটি। আশিস মিত্রের মতে, “খাওয়ার পরে যদি অন্তত ১৫ মিনিট হাঁটা যায়, তাহলে শরীরে শর্করার পরিমাণ চট করে বাড়তে পারে না। তাই যেমন সকালের হাঁটাটাও জরুরি, তেমনই প্রয়োজন খাবার খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি।”
খাওয়াদাওয়ার বিষয়ও দিতে হবে বাড়তি নজর। তাঁর কথায়, “খাবার খাওয়ার নিয়মই হল প্রথমে ফাইবার দিয়ে মিল শুরু করা। যে কোনও স্যালাড হতে পারে। এর পর প্রোটিন। সেটাও একবারেই খেয়ে নিতে হবে। এর পর নিতে হবে পরিমাণ মেনেই ভাত। সঙ্গে রাখুন আলু ছাড়া যে কোনও শাক-সব্জি এবং মাছ। একদম শেষে পেটে জায়গা থাকলে পাতে রাখুন এক বাটি দই। এই নিয়ম মেনে চললে ওজন ও শর্করার মাত্রা, দু’টিই থাকবে নিয়ন্ত্রণে”।
যে সমস্ত রোগীরা প্রতিনিয়ত ওষুধ নিচ্ছেন বা ইনসুলিন নিচ্ছেন, পুজোর দিনে খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম হলে, নিজের মতো ডোজ কি বাড়ানো যাবে? কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক?
আশিস মিত্রের মতে, “ইনসুলিনের ক্ষেত্রে একটি সুবিধা হল, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা বাড়ানো যেতেই পারে। কিন্তু ওষুধের ক্ষেত্রে এই কৌশলটি কিন্তু বেশ জটিল। সে ক্ষেত্রে আমি বলব ডোজ না বাড়িতে খাবারের পর হাঁটাহাঁটির সময়টা বাড়ান। তাহলে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।” পাশাপাশি বাড়িতেও নিয়মিত পরীক্ষা করতে পারেন এটি। তিনি বলেন, “সাধারণত দিনে সাত বার পরীক্ষা করতে বলা হয়, প্রথমে ঘুম থেকে উঠে, তারপর প্রাতরাশের আগে, এর দু’ঘণ্টা পরে, দুপুরের খাবার আগে, এর দু’ঘণ্টা পরে, রাত্রে বেলা খাবার খাওয়ার আগে একবার এবং একেবারে শোয়ার সময়ে একবার। যদিও এত বার আঙুল থেকে রক্ত বের করে পরীক্ষা করা কিছুটা অসম্ভব। কাজেই আমরা বলি সপ্তাহের প্রত্যেকদিন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরীক্ষা করে রোগীকে নিয়ে আসতে। সেই অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অবশ্য এর বিকল্প পদ্ধতিও রয়েছে। যাকে বলা হয়, ‘সিজিএম’ বা ‘কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং’ পদ্ধতি। ব্যথা-বেদনাহীন। সেন্সরের মাধ্যমেই পরীক্ষা হয় সবটা। দামেও অত্যন্ত বেশি।”
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
