প্রকৃতির সরাসরি সান্নিধ্যে এসে বন্যপ্রাণ, জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে হাতেকলমে শেখার সুযোগ পেতে চলেছে পড়ুয়ারা। এই উদ্দেশ্যে অসমের নামেরি ব্যাঘ্র প্রকল্পে শুরু হয়েছে ‘নামেরি ওয়াইল্ড ক্লাসরুম’ নামে একটি শিক্ষা কর্মসূচি। অসম সরকারের বন বিভাগের এই উদ্যোগে অষ্টম শ্রেণি থেকে স্নাতক স্তরের পড়ুয়ারা যোগ দিতে পারবেন। সম্প্রতি রাজ্যের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া এই কর্মসূচির সূচনার কথা ঘোষণা করেছেন।
কী শেখানো হবে এই কর্মসূচিতে?
দুই থেকে তিন দিনের এই আবাসিক কর্মসূচিতে পড়ুয়ারা শ্রেণিকক্ষের বাইরে গিয়ে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। প্রশিক্ষিত প্রকৃতিবিদ এবং বনকর্মীরা তাদের পথ দেখাবেন। জঙ্গলে ঘুরে বন্যপ্রাণীর চলাচলের চিহ্ন শনাক্ত করা, পাখি পর্যবেক্ষণ এবং নদীর বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে হাতেকলমে শেখার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়াও, জিয়া-ভরালী নদীতে রিভার রাফটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও পাবে পড়ুয়ারা।
বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের ভূমিকা এবং তাঁদের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান সম্পর্কে পড়ুয়াদের ধারণা দেওয়াও এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। সেই কারণে বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় জনজাতির জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করানো হবে।
কর্মসূচি চলাকালীন পড়ুয়াদের একটি ফিল্ড জার্নাল রাখতে হবে। সেখানে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, বন্যপ্রাণী সম্পর্কে অভিজ্ঞতা এবং শেখা বিষয়গুলি নথিবদ্ধ করতে পারবে তারা।
কারা যোগ দিতে পারবেন?
অষ্টম শ্রেণি এবং তার উপরের স্তরের স্কুলপড়ুয়া ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবে। কর্মসূচির মেয়াদ দুই থেকে তিন দিন। সফল ভাবে কর্মসূচি সম্পূর্ণ করলে প্রার্থীদের শংসাপত্রও দেওয়া হবে।
প্রকৃতি সম্পর্কিত বইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই ‘নামেরি ওয়াইল্ড ক্লাসরুম’-এর মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। তবে কর্মসূচিতে যোগদানের আবেদন পদ্ধতি, নির্দিষ্ট তারিখ এবং খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে অসম বন বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকে।
