বুসানে সেরা ‘মিডডে মিল’, কী আছে এই ইরানি সিনেমায়?
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ৩১তম বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (বিআইএফএফ) সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে ইরানি নির্মাতা মাজিদ মাজিদির ‘মিডডে মিল’। এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে ছবিটি এ বছরের অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে জমা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে ছবিটির নাম সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
প্রতিযোগিতার সাত সদস্যের বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে ছবিটিকে বিজয়ী নির্বাচিত করে। এ বছর এশিয়ার ১৩টি চলচ্চিত্র নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বুসান অ্যাওয়ার্ডসের এই প্রতিযোগিতা। সেরা ছবির পুরস্কার হিসেবে ‘মিডডে মিল’ পেয়েছে ৫ কোটি দক্ষিণ কোরীয় ওন, যা প্রায় ৩৭ হাজার মার্কিন ডলারের সমান।
চলতি বছর থেকে বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের সেরা ছবির জন্য অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে জমা দেওয়ার যোগ্যতা যুক্ত হয়েছে। সেই নিয়মেই অস্কারে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে মাজিদির ছবিটির সামনে।
উৎসবেই প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয় ১৩৩ মিনিটের ‘মিডডে মিল’। ছবিটির গল্প ইরানের খরাপীড়িত এক প্রত্যন্ত গ্রামের একমাত্র শিক্ষক সোলানকে ঘিরে। স্থায়ী শিক্ষকতার চাকরি এবং নিজের ও মায়ের জন্য একটি উপযুক্ত বাসস্থানের আশায় থাকা সোলানকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যখন স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া দাতার মৃত্যু হয়। খাবার বন্ধ হয়ে গেলে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা বন্ধ করে দিতে পারে, যা হুমকির মুখে ফেলে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে।
শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা না পেয়ে সোলান স্কুলেই থাকতে শুরু করেন। দিনের বেলায় শিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাতে জড়িয়ে পড়েন তেল চোরাচালানে। নিজের কাজের নৈতিকতা নিয়ে দ্বন্দ্বে পড়লেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্কুল টিকিয়ে রাখার জন্য তাকে নানা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ব্যক্তিগত সংকট, নৈতিক দ্বিধা এবং শিক্ষা নিশ্চিত করতে মানুষের সংগ্রামই ছবিটির মূল উপজীব্য।
ছবিটি পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্যও লিখেছেন মাজিদ মাজিদি। প্রযোজক হিসেবেও তিনি যুক্ত ছিলেন। তার সঙ্গে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন আমির বানান।
পুরস্কার গ্রহণের সময় মাজিদি বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথমবার অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি পুরস্কারটি উৎসর্গ করেন ইরানের মানুষের প্রতি। নিপীড়নের মুখেও তাদের লড়াই ও সহনশীলতার কথা তুলে ধরে তিনি যুদ্ধহীন বিশ্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বিচারক প্যানেলের সভাপতি চীনা নির্মাতা ঝাং ইমু ছবিটিকে আদর্শ চলচ্চিত্র হিসেবে প্রশংসা করেন।
‘চিলড্রেন অব হেভেন’ (১৯৯৭) ও ‘দ্য কালার অব প্যারাডাইস’ (১৯৯৯)-এর মতো চলচ্চিত্রের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মাজিদি। ‘চিলড্রেন অব হেভেন’ প্রথম ইরানি চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কারের সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল। পরে তার ‘সান চিলড্রেন’ (২০২০) ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগেও স্থান পায়।
গত ৬ থেকে ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৩১তম বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে মোট ৩১৫টি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে উৎসবের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনে ছিল ২৪৬টি ছবি, যার ৯৪টি ছিল বিশ্ব প্রিমিয়ার। আয়োজকদের তথ্যমতে, এবারের উৎসবে মোট দর্শক উপস্থিতি ছিল ২ লাখ ৪৩ জন, যা ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ। পাশাপাশি উৎসবসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ। ব্রডকাস্টপ্রম
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
