প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করায় গ্রেপ্তার আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসআই ইয়াছিন পাইক আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তী সময়ে আসামির রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হবে।
এর আগে, বুধবার গভীর রাতে রাজশাহীর পবা থানার কচুয়াতৈল এলাকার বাসা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে চড়ে তিনি নগরীতে প্রবেশ করেন। পরে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন। জনসভা শেষে দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি মন্দির পরিদর্শন করে একই বাসে বিমানবন্দরে ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্য বিউটি অব রাজশাহী নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত বাসের ছবি দিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয়, ‘সবই বুঝলাম রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কি জানেন রাজশাহীবাসী?’
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এমডি আবু বকর সিদ্দিক নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’
মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই মন্তব্যের সূত্র ধরে আবু বকর সিদ্দিককে শনাক্ত করে। এরপর তাকে আটক করে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
