ছবির ক্যাপশন: .
মো. আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিএনপি জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা ঠেকাতে দলটি মাঠে রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে বাস-ট্রেনে আগুন ও হাইকোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ — এসব কি শুধু পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ করছে, নাকি বর্তমান বিরোধী দলও এর সঙ্গে জড়িত? এই প্রশ্ন আজ জনমনে।
তিনি বলেন, যারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লংমার্চ করছেন, তাদের এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়া উচিত।
রিজভী আরও বলেন, ৫ আগস্ট ও ১২ ফেব্রুয়ারির গণতান্ত্রিক বিজয়ের পর ১৭ বছরের নির্যাতন-নিপীড়নের সংস্কৃতি থেকে দেশ বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। গুম, খুন, গুপ্তহত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যা ছিল আগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। জনগণের অর্থ চুরি ও সম্পদ লুটের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের একসময় পালিয়ে যেতে হয়।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সংকট ও বিভিন্ন দেশের সংঘাতের কারণে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। আগে প্রতি লিটার ডিজেলে ৯০ টাকা লোকসান গুনতে হতো, সমন্বয়ের পরও ৭০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। সরকার লুটপাট না করে আর্থিক খাত গোছানোর চেষ্টা করছে, যার ফলে ব্যাংকিং খাত কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
বিরোধী দলগুলোর সাম্প্রতিক লংমার্চের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময়ে সাড়ে চারশ গাড়ির বহর নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ জনমনে ধোঁয়াশা তৈরির কর্মসূচি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, গত রোববার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গুপ্ত সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছাত্র সংগঠন তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এর দায় কে নেবে? পারলে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লংমার্চ করে দেখান।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ব্যারিস্টার নাসিম খান এবং সঞ্চালনা করেন মুখপাত্র এস এম শাহাদাত।
