আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাজতে আটক থাকার সময় নিজের ঠাকুমার প্রয়াণের খবর দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে দিল্লি পুলিশ ও পরিবারের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হতেই একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আনল পুলিশ প্রশাসন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের পরিবারের তোলা অভিযোগের পাল্টা জবাব হিসেবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে ওই ফুটেজটি শেয়ার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, আটকের সময় অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দিপককে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল এবং শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য বিমানের টিকিট কাটা বা ফোনের ব্যবস্থাসহ সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেই তা ফিরিয়ে দেন।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন দিপকের মা অনিতা দিপকে অভিযোগ করেন, দিল্লি পুলিশ তাঁদের সঙ্গে মিথ্যাচার করছে। তাঁর দাবি ছিল, পরিবারের সদস্যরা পুলিশি হেফাজতে থাকা ছেলের সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না এবং অভিজিতের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় তাঁর ৮৫ বছর বয়সি ঠাকুমা সাবিত্রীবাই দিপকের শেষকৃত্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সন্তুক পিম্পরি গ্রামে বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার সকালে মারা যান তিনি। পরিবারের এই অভিযোগের পরেই ময়দানে নামে পুলিশ। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) নেহা যাদব স্পষ্ট জানান, মানবিকতার খাতিরে পুলিশ নিজের উদ্যোগে তাঁকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেছিল এবং গ্রামে ফেরার বন্দোবস্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু দিপকে সেই প্রস্তাবে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা ছিল সিজেপি-র। সেই জমায়েত ঘিরেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় গত ১০ অক্টোবর মুম্বই থেকে দিল্লি পৌঁছনো মাত্রই সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ অভিজিৎ দিপককে আটক করে পুলিশ। আগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে হিংসা ও ভাঙচুরের ইতিহাস থাকার কারণে ওই এলাকায় বিক্ষোভের অনুমতি আগেই খারিজ করা হয়েছিল বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
অবশ্য পরবর্তীকালে এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার শর্তে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুক্তি পান ওই তিন নেতা। তবে মুক্তির পরেই দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে ইতি টানেননি অভিজিৎ। সমাজমাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিবাদ বন্ধ রাখার কোনো বন্ডে তিনি সই করেননি এবং খুব শীঘ্রই নিজেদের দাবি আদায়ে আবার রাজপথে নামবেন।
