চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে বহিরাগতদের নিয়ে অনুষ্ঠান করতে বাধা দেয়ায় ছাত্রদল নেতাকে হুমকি এবং ক্যাম্পাসে ঢুকে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নেতা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জমির উদ্দিন নাহিদ। এ ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। তবে গতকাল রোববার ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
পলিটেকনিক সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বিকেএ মেধাবৃত্তির সনদ, পুরস্কার বিতরণ ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ অতিথি ছিলেন। এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পলিটেকনিক ছাত্রদল নেতা রাকিব ফেসবুকে লাইভ করছেন। স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জমির উদ্দিনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে রাকিব লাইভে বলেন, পলিটেকনিকে এসে প্রভাব বিস্তার করছে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা নাহিদ। তিনি কোনো ছাত্র না হয়েও এখানে আসেন। আমাকে মারধর করেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার কাজ কী? এ সময় জমির উদ্দিনকে তার দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, পলিটেকনিকে বাইরের কোনো প্রোগ্রাম করার অনুমতি নেই। অথচ অধ্যক্ষ স্যারসহ ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি সেখানে করা হয়।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুস্থ ধারার রাজনীতি হবে। কিন্তু অনেকে প্রভাব সৃষ্টি করতে তা মানছেন না।
এ বিষয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ বলেন, যেই ছেলেটি আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিল সে ছাত্রলীগ করত। ১২ ফেব্রুয়ারির আগে করত শিবির। এর আগে বিশৃঙ্খলার দায়ে তাকে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে বদলি করা হয়। এমনকি এক ছাত্রকে হুমকির মামলায় তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাইরের কর্মসূচি হলেও সেটি শিক্ষামূলক কর্মসূচি ছিল। আমি মনে করি এতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা প্রকৌশলী হতে উদ্বুদ্ধ হবে। তারা দেখবে পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানটি কেমন। তাছাড়া আমি পলিটেকনিকের একজন সাবেক ছাত্র। প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সত্য নয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ রেজাউল করিমকে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
