জ়িম্বাবোয়ের মহিলা দলকে হারাতে যে বেশি কাঠখড় পোড়াতে হবে না তা জানাই ছিল। সেটাই হল। টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে চুনকামের পর এক দিনের সিরিজ়ও জিতল ভারতের মেয়েরা। যা পরিস্থিতি তাতে বুধবার তৃতীয় ম্যাচ জিতে ৫০ ওভারের ফরম্যাটেও চুনকাম করতে পারে ভারত। কিন্তু জয়ের মধ্যেই অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানার ফর্ম চিন্তা বাড়াচ্ছে।
সব ফরম্যাটে অধিনায়ক হওয়ার পর টানা দুই সিরিজ় জিতলেন স্মৃতি। কিন্তু ব্যাট হাতে একেবারেই ছন্দে নেই তিনি। তবে কি এখন থেকেই অধিনায়কত্বের চাপ সামলাতে পারছেন না? তবে তিনি মহিলাদের আইপিএলে অধিনায়কত্ব করেন। তাই কী ভাবে সেই চাপ সামলাতে হয় জানেন। এই সিরিজ়ে আরও একটি ম্যাচ পাবেন তিনি। সেখানে রানে না ফিরলে সমালোচনা আরও বাড়বে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে শূন্য রানে আউট হয়ে ফেরেন স্মৃতি। এমন নয় যে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে খেলছেন। যে সব শট খেলে আউট হচ্ছেন, সেগুলি সচরাচর তিনি মারেন না। দ্রুত রানে ফিরতে হবে অধিনায়ককে। নইলে চাপ বাড়বে তাঁর উপর।
আরও একটি ম্য়াচে রান করলেন প্রতীকা রাওয়াল। আগের ম্যাচে শতরান করেছিলেন। এই ম্যাচে ৬১ রানের ইনিংস খেললেন। শেফালি বর্মা অবশ্য রান পাননি। ৮ রানে আউট হন। তার পরেই দেখা গেল হরমনপ্রীত কৌর-দীপ্তি শর্মার তাণ্ডব। প্রথমে প্রতীকার সঙ্গে ১২৪ রানের জুটি বাঁধেন হরমনপ্রীত। পরে দীপ্তির সঙ্গে ১৫৩ রানের জুটি হয় তাঁর। এই দুই জুটি ভারতকে বড় রানে নিয়ে গেল।
অধিনায়ক হওয়ার পর স্মৃতির ব্যাটে যেমন রান নেই, ঠিক তেমনই অধিনায়কত্ব যাওয়ার পর ব্যাটে রান ফিরেছে হরমনপ্রীতের। দেখে মনে হচ্ছে, ব্যাটার হরমনপ্রীতের নবজন্ম হয়েছে। একের পর এক বড় ইনিংস খেলছেন। আগের ম্যাচে নামতে হয়নি। এই ম্যাচে নেমে করলেন শতরান। এক দিনের ক্রিকেটে এক বছর পর আবার তিন অঙ্কের রান করলেন তিনি।
১২১ বলে ১২৬ রানের ইনিংস খেলেন হরমনপ্রীত। মারেন ১৫টি চার। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল, ব্যাট হাতে সকলকে জবাব দিতে নেমেছেন। অন্য দিকে দীপ্তি আরও এক বার বোঝালেন, কেন তিনি এই ভারতীয় দলের তুরুপের তাস। মাত্র ৮৬ বলে অপরাজিত ১০৬ রানের ইনিংস খেললেন। তিনিও মারলেন ১৫টি চার। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩২৮ রান করে ভারত।
এই রান যে জ়িম্বাবোয়ে তাড়া করতে পারবে না, তা নিশ্চিত ছিল। প্রশ্ন ছিল, তারা পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারবে কি না। পারল না তারা। ৪৮.৫ ওভারে ২০৭ রানে অল আউট হয়ে গেল পুরো দল।
এই ম্যাচে ক্রান্তি গৌড়ের বদলে সুযোগ পেয়েছিলেন বৈষ্ণবী শর্মা। তিনি দেখালেন, ভারতের স্পিন আক্রমণ কেন এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা। সুযোগ পেয়েই নিলেন ৪ উইকেট। জ়িম্বাবোয়ের মিডল অর্ডার একাই শেষ করলেন। শেষ দিকে দীপ্তি বল হাতেও দাপট দেখালেন। শতরানের পর নিলেন ৩ উইকেট। তিনিই প্রথম ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার যিনি এক ম্যাচে শতরান ও ৩ উইকেট নিয়েছেন।
জ়িম্বাবোয়ের ব্যাটারদের মধ্যে মোদেস্তার মুপাচিকওয়া (৪৯) ও চিপো মুগেরি-ত্রিপানো (৪৬) কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের সামনে যে তাঁদের এই লড়াই ব্যর্থ হবে তা শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। রান তোলার গতি কোনও সময় বাড়েনি। বৈষ্ণবী ও দীপ্তি ছাড়া সায়ালি সাতঘরে, জিন্টিমনি কলিতা ও শ্রী চরণি ১ করে উইকেট নিয়েছেন।
