স্টাফ রিপোর্টার।।
আওয়ামী লীগ নেতা ও খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সাবেক প্যানেল মেয়র এবং ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলী আকবর টিপুকে রাজধানী ঢাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রোববার (১১ অক্টোবর) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) খুলনা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেপ্তারের পর থেকেই খুলনা জুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং এর প্রভাবে মহানগরীতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফের গা ঢাকা দিয়েছেন।
গ্রেপ্তারের নেপথ্য ও আন্ডারগ্রাউন্ড কার্যক্রম: পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই আলী আকবর টিপু খুলনা ছেড়ে পালিয়ে ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যান। পলায়নপর অবস্থায় থেকেও তিনি বসে ছিলেন না; বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজে নিয়মিত উসকানিমূলক বা রাজনৈতিক পোস্ট দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত ও সংঘটিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ঢাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
কেএমপি’র গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, আলী আকবর টিপুকে ঢাকার একটি নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দ্রুত খুলনায় ফিরিয়ে আনা হবে।
নেতাকর্মীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও পলায়নপর মানসিকতা: খুলনার স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, আলী আকবর টিপুর মতো একজন শীর্ষস্থানীয় স্থানীয় নেতা ও সাবেক প্যানেল মেয়রের গ্রেপ্তারের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই খুলনার রাজনৈতিক মাঠে একধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এতদিন যারা গোপনে বা আড়ালে থেকে দলীয় কার্যক্রম বা যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন, টিপুর আটকের পর তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্ভাব্য অভিযানের ভয়ে খুলনা মহানগর ও আশপাশের এলাকার অনেক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী তাদের পরিচিত ঠিকানা ছেড়ে পুনরায় সম্পূর্ণ গা ঢাকা দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রভাবশালী এই নেতার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে খুলনা অঞ্চলে পলাতক অপরাধী ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চাপ আরও জোরালো হলো।
