Published on
:
2 min read
অশান্তির আগুনে পুড়ছে ফ্রান্স। সেখানে অশান্তি বৃদ্ধির জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে সরাসরি দায়ী করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সীমান্ত ব্যবস্থা আরও কঠোর করার জন্য ফরাসি প্রেসিডেন্টের কাছ আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। আর এই সবের মধ্যে ‘প্যারিস শীঘ্রই মুসলিম শহরে পরিণত হবে’ বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট।
গত কয়েক দিন ধরেই অশান্ত ফ্রান্স। অবাধে চলছে লুটপাট, ভাঙচুর। একের পর এক সরকারি প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে হিংসার আগুন। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক এলাকায় আংশিক কার্ফু জারির নির্দেশ দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। এখনও সেখানে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই।
সেপ্টেম্বর মাস থেকেই স্কুল-কলেজে উন্নত পরিকাঠামোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করে প্যারিসের স্কুলছাত্ররা। তাঁদের সেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেওয়ার পিছনে রয়েছে কমিউনিস্ট এবং অভিবাসী মুসলিমরা বলে একাংশের দাবি।
এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সকে সতর্ক করলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও হিংসার জন্য দায়ী সেখানকার অভিবাসন নীতি। এই কারণে ইউরোপ এবং ফরাসি প্রেসিডেন্টকে সীমান্ত কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। সোমবার, ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প বলেন, ‘ফ্রান্সে যা ঘটছে তার সঙ্গে অভিবাসনের সম্পর্ক রয়েছে। স্কুল বা অন্য কিছুর সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই।’ আগের দিনের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে পুরো ঘটনা ‘অভিবাসনের বিষয়’ বলে উল্লেখ করে ফরাসি প্রেসিডেন্টকে তাঁদের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বলেছেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গত সপ্তাহে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে প্যারিস-সহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে। এই বিক্ষোভ এক পর্যায়ে চরম আকার ধারণ করে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে ফ্রান্সে দেখা দেওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ হিংসার রূপ নেয়।
এই নিয়ে আগেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ফ্রান্সে বড় ধরনের ভুল করছেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন ম্যাক্রোঁকে। এখনই সতর্ক না হলে ‘খুব শীঘ্রই প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে’ বলেও মন্তব্য করেছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট।
২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় থেকেই অবৈধ অভিবাসন রোধ করার কথা বলছেন ট্রাম্প। এখনই সীমান্ত বন্ধ করে অপরাধীদের বের করে না দিলে ইউরোপ শেষ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট।
