Published on
:
2 min read
চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথরের ছোড়ার অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর জখম জানলার ধারে বসে থাকা এক যাত্রী। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের খড়্গপুর-টাটানগর শাখার সরডিহা ও বাঁশতলা স্টেশনের মাঝে। পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় ট্রেনের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন ওই যাত্রী। জখম যুবকের নাম অমৃক সিং (২৮)। তিনি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার টাটানগরের মানগো থানা এলাকার বাসিন্দা। ট্রেন ঝাড়গ্রাম স্টেশনে পৌঁছলে RPF ও স্টেশন ম্যানেজার ছুটে যান। তাঁরাই আহতকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। আপাতত সেখানেই চিকিৎসা চলছে তাঁর। ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ট্রেনের যাত্রীর সুরক্ষা নিয়ে।
একনজরে
চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের খড়্গপুর-টাটানগর শাখায়।
সোমবার রাতে সরডিহা ও বাঁশতলা স্টেশনের মাঝে এই ঘটনা ঘটে।
পাথরের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন জানলার ধারে বসে থাকা ২৮ বছরের যুবক অমৃক সিং।
অমৃক ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার টাটানগরের মানগো থানা এলাকার বাসিন্দা।
হাওড়া-টাটানগর স্টিল এক্সপ্রেসে চেপে বাড়ি ফেরার সময় রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ তাঁর উপর পাথর এসে লাগে বলে অভিযোগ।
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে অমৃক হাওড়া স্টেশন থেকে হাওড়া-টাটানগর স্টিল এক্সপ্রেসে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক ৮টা সাড়ে ৮টা নাগাদ ট্রেনটি সরডিহা স্টেশন পেরিয়ে বাঁশতলার দিকে যাওয়ার সময় ঘটে বিপত্তি। বাঁ দিক থেকে হঠাৎই ট্রেন লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। অমৃক জানলার ধারে বসে থাকায় একটি পাথর তাঁর কানের উপর এসে লাগে। গুরুতর জখম হয়ে ট্রেনের কামরাতেই রক্তাক্ত হয়ে পড়েন তিনি।
এর পরে ট্রেন ঝাড়গ্রাম স্টেশনে পৌঁছলে, রক্তাক্ত যাত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে RPF। খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির স্বাস্থ্য সেলের সদস্য কৃষ্ণপ্রসাদ দোলই। তিনি আহত যুবকের চিকিৎসার তদারকি করেন। কৃষ্ণপ্রসাদ জানিয়েছেন, যুবকের কানের পাশ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। কিছু দুষ্কৃতীর এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে যুবকের প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটতে পারত, অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহত যুবক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
চলন্ত ট্রেনে হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাকি যাত্রীরাও। পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে নিত্যযাত্রী সমিতির ঝাড়গ্রাম জেলা সম্পাদক সৌগত মাহাতো খড়্গপুর ডিভিশনের যাত্রী সুরক্ষা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। অন্যদিকে, খড়্গপুর ডিভিশনের সিনিয়র কমার্শিয়াল ম্যানেজার নিশান্ত কুমার জানিয়েছেন, ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনা রুখতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। ঝাড়গ্রাম জেলায় এই ধরনের ঘটনা প্রথম ঘটল। এলাকাটি চিহ্নিত করে স্থানীয়দের সচেতন করা হবে। RPF-র তরফে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
FAQ
১. প্রশ্ন: চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা কোথায় ঘটেছে?
উত্তর: দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের খড়্গপুর-টাটানগর শাখায় সরডিহা ও বাঁশতলা স্টেশনের মাঝে এই ঘটনা ঘটে।
২. প্রশ্ন: ঘটনাটি কবে ঘটেছে?
উত্তর: সোমবার রাতে আনুমানিক সাড়ে ৮টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে।
৩. প্রশ্ন: পাথরের আঘাতে কে জখম হয়েছেন?
উত্তর: অমৃক সিং নামে ২৮ বছরের এক যুবক গুরুতর জখম হয়েছেন। তিনি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার টাটানগরের মানগো থানা এলাকার বাসিন্দা।
৪. প্রশ্ন: কোন ট্রেনে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন অমৃক?
উত্তর: অমৃক হাওড়া স্টেশন থেকে হাওড়া-টাটানগর স্টিল এক্সপ্রেসে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন।
৫. প্রশ্ন: কীভাবে জখম হন ওই যুবক?
উত্তর: অভিযোগ, সরডিহা স্টেশন পেরিয়ে বাঁশতলার দিকে যাওয়ার সময় ট্রেন লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি পাথর ছোড়া হয়। জানলার ধারে বসে থাকায় একটি পাথর অমৃকের কানের উপরে লাগে। এতে তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।