আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের আগে ভেন্যুটির মাঠ, উইকেট, ড্রেসিংরুম, চিকিৎসাসেবা ও গণমাধ্যমের সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রতিনিধি দল।
আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। ম্যাচটি নির্বিঘ্নে আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার স্টেডিয়ামের সার্বিক অবস্থা ও অবকাঠামোগত সুবিধা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন বিসিবির ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনে যেসব ক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তন বা উন্নয়ন প্রয়োজন, সেগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিসিবির গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ন্যাশনাল ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে। পরিদর্শন শেষে ভেন্যুটির সুযোগ-সুবিধা ও এবিজি স্পোর্টস সিটির সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভেন্যুতে বিসিবির প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। এ উদ্যোগের জন্য এবিজি স্পোর্টস সিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা অসাধারণ একটি ভেন্যু। আমরা অনেক দিন ধরেই খেলাধুলার আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। তবে এই প্রথম বিসিবি এ ধরনের একটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভেন্যুতে আয়োজন করছে।’
স্টেডিয়ামের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এখানকার সুযোগ-সুবিধা অসাধারণ। সবাই সহযোগিতাপরায়ণ ও সহায়তাপ্রবণ। আমরা উইকেট, আউটফিল্ড, ড্রেসিংরুম, চিকিৎসা ও লজিস্টিক সুবিধা, সাংবাদিকদের বসার জায়গা এবং সংবাদ কাভারেজের ব্যবস্থা দেখেছি। বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেসব জায়গায় সামান্য পরিবর্তন বা উন্নয়ন প্রয়োজন, সেগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে।’
আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক দলের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ক্রিকেট পরিচালনার সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এবিজি স্পোর্টস সিটিতে আরও একটি ক্রিকেট মাঠ নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি সেখানে রয়েছে অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে ক্রিকেট আয়োজনের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল বাতেন বলেন, ‘দুই দিনের এই প্রস্তুতি ম্যাচ আমাদের জন্য একটি টেস্ট কেস। বসুন্ধরায় আরও একটি মাঠ তৈরি হচ্ছে। তাদের ভালো অনুশীলন সুবিধাও রয়েছে।’
পরিদর্শনকালে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান, এবিজির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার লেফটেন্যান্ট কর্নেল শোয়েব শফিকসহ প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনকে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও এবিজি স্পোর্টস সিটির জন্য বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন পরিচালক মো. ইমরুল হাসান। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দুই দিনের একটি ম্যাচ হবে। এবিজি স্পোর্টস সিটি ও আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য এটি অবশ্যই গৌরবের বিষয়।’
বিসিবির প্রতিনিধি দলকে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেখানোর কথা উল্লেখ করে মো. ইমরুল হাসান বলেন, ‘মাঠ থেকে শুরু করে ড্রেসিংরুম, সাংবাদিকদের কক্ষ, মেডিকেল রুমসহ সবকিছুই আমরা তাদের দেখিয়েছি। বিসিবি এ ধরনের আয়োজন করতে অভ্যস্ত, আর আমরা একেবারেই নতুন। তাই তাদের দিকনির্দেশনা নিয়েই কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। তাদের কথাবার্তা থেকে আমার মনে হয়েছে, তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট।’
এর আগে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি এই মাঠে জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচও আয়োজন করা হয়। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দলের অংশগ্রহণে ম্যাচ পরিচালনার নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যাচ্ছে ভেন্যুটি।
বিসিবির প্রতিনিধি দলের পরিদর্শন ও আসন্ন প্রস্তুতি ম্যাচকে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
যে আই
