আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইউক্রেনে জেলেনস্কির পরিবর্তে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে 'Energy Ceasefire' বা জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধের চুক্তির কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এই দাবি করেন তিনি। জানান, দুই দেশই এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। তবে চুক্তি কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ট্রাম্প দাবি করেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে একেবারেই 'অজানা খবর' বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, আমেরিকা বা রাশিয়ার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, "রাশিয়া প্রস্তুত থাকলে ইউক্রেনও Energy Ceasefire রাজি।" তবে তা কবে বাস্তবায়িত হবে, তা-ও তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হোক বলে দাবি তাঁর। একই দিনে কানাডা ও ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধান এবং ন্যাটো-র সর্বময় কর্তার সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানান জেলেনস্কি।
তবে ট্রাম্পের এই বার্তার কিছু ঘণ্টার মধ্যেই কিয়েভ এবং খারকিভের বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন করে ড্রোন আক্রমণ চালায় রুশ বাহিনী। এতে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন ইউক্রেনের প্রধান। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার ঠিক পরেই এই আক্রমণ চালিয়েছে মস্কো।"
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, তাই ইউক্রেনের উচিত নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়া। এর কড়া জবাবে জেলেনস্কি বলেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই জানাতে চাই কাকে নেতা বেছে নেওয়া হবে, তা ইউক্রেনের জনগণ ঠিক করবে।" তিনি আরও জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন। কিছুদিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি পাওয়া গেলে তবেই তা সম্ভব হবে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে শেষ দিন পর্যন্ত যুদ্ধ চালাবে ইউক্রেন, তা-ও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া যদি তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে আক্রমণ বন্ধ করে, তবে তারাও রাশিয়ার তেল পরিশোধনাগারে আক্রমণ চালানো থেকে বিরত থাকবে। অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও ডিজেল সংক্রান্ত নতুন চুক্তি হওয়ায় আপত্তি জানিয়েছে ইউক্রেন।
