শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ মহাষ্টমী। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দিনভর পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হবে দিনটি। মহাষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠে এ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকালে শুরু হবে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে দুপুরে বিতরণ করা হবে মহাপ্রসাদ।
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাঁকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। মহাষ্টমীর দিনে কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার সন্ধিপূজা অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ সময়েই দেবী দুর্গা অসুরবিনাশী রূপ ধারণ করেন।
হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত এক থেকে ১৬ বছর বয়সী অবিবাহিত কুমারীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, বয়সভেদে কুমারীর বিভিন্ন নাম ও রূপ কল্পনা করা হয়েছে। এক বছর বয়সী কন্যা সন্ধ্যা, দুই বছর বয়সী সরস্বতী, তিন বছর বয়সী ত্রিধামূর্তি, চার বছর বয়সী কলিকা, পাঁচ বছর বয়সী সুভাগা, ছয় বছর বয়সী উমা, সাত বছর বয়সী মালিনী, আট বছর বয়সী কুব্জিকা, নয় বছর বয়সী কালসন্দর্ভা, ১০ বছর বয়সী অপরাজিতা, ১১ বছর বয়সী রুদ্রাণী, ১২ বছর বয়সী ভৈরবী, ১৩ বছর বয়সী মহালক্ষ্মী, ১৪ বছর বয়সী পীঠনায়িকা, ১৫ বছর বয়সী ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ১৬ বছর বয়সী কুমারী অন্নদা নামে অভিহিত হন।
শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষা অনুসারে, শুদ্ধাত্মা কুমারীর মধ্যে ভগবতীর রূপ অধিক প্রকাশিত হয়। কুমারী পূজার মূল উদ্দেশ্য মাতৃরূপ উপলব্ধি করা এবং নারীর মধ্যে দেবীসত্তার প্রকাশকে শ্রদ্ধা জানানো।
পূজার আনুষ্ঠানিকতায় নির্বাচিত কুমারীকে ভোরে স্নান করিয়ে নতুন পোশাক পরানো হয়। সিঁদুর, আলতা ও ফুল দিয়ে সাজিয়ে সুসজ্জিত আসনে বসানো হয় তাঁকে। এরপর ষোড়শোপচারে, অর্থাৎ ১৬টি উপাচারের মাধ্যমে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এ সময় শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি ও দেবীস্তোত্রে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ।
কুমারী পূজার তাৎপর্য তুলে ধরে পুরোহিতেরা বলেন, আধুনিক পৃথিবীর সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংকট মোকাবিলায় নারীর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীর মাতৃরূপকে মহিমান্বিত করে কুমারী পূজার মাধ্যমে জগতের সব মাতৃজাতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। কুমারীর মধ্যে আদ্যাশক্তির রূপ কল্পনা করে ভক্তরা দেবীর প্রতি প্রণতি জানান।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা ভক্তদের দুঃখ-কষ্ট, বাধাবিঘ্ন, ভয়, শোক ও যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করেন। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনের বার্তা ছড়িয়ে পড়ার পর মহাসপ্তমী পেরিয়ে আজ এসেছে মহাষ্টমী। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং বিদায় নৌকায়। আগামী মঙ্গলবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে বিকেল ৩টার পর। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রা শেষে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। মহা-আরতির মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
সানা/আপ্র/১৯/১০/২০২৬
