এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার দেশের ১৭ রাজ্যে স্পেশাল সামারি রিভিশন চালুর কথা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। যা নিজেদের জয় হিসাবে দেখছে বিরোধীরা। এবার বিরোধীদের আরও এক দাবি মানল কমিশন। এবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলিকে মেশিন রিডেবল পিডিএফ ফরম্যাটে ভোটার তালিকা দেবে কমিশন।
রাহুল গান্ধী তথা বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন নির্বাচন কমিশন ‘চুরি’ লুকোতে রাজনৈতিক দলগুলির হাতে মেশিন রিডেবল ভোটার তালিকাই দিচ্ছে না। যে তালিকা নির্বাচন কমিশন দেয় সেটা পিডিএফের ‘ইমেজ’ ফরম্যাট। অর্থাৎ ওই ভোটার তালিকায় কারও নাম সার্চ করা যায় না। কোনও নির্দিষ্ট তথ্য আলাদা করে সার্চ করা যায় না। লেখা কপি বা পেস্ট করা যায় না। ফলে কোনও তথ্য খুঁজতে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে খড়ের গাদায় সুচ খোঁজার মতো পরিস্থিতি হয়। যার ফলে বহু ভুয়ো ভোটার তালিকায় লুকিয়ে থাকে।
এই নিয়ে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীরা দাবি করেছিলেন সব রাজনৈতিক দলকে মেশিন রিডেবল ভোটার লিস্ট দিতে হবে। সেসময় কমিশন যুক্তি দেয়, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপত্তার জন্য রাজনৈতিক দলগুলিকে ওই ধরনের ভোটার তালিকা দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত বদল সম্ভব নয়। কিন্তু এখন বিরোধীদের বিক্ষোভের আবহে সেই সিদ্ধান্তে বদল করলেন জ্ঞানেশ কুমাররা। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবার থেকে সব রাজনৈতিক দলকে মেশিন রিডেবল ভোটার তালিকা দেওয়া হবে। তাতে ভোটার তালিকা থেকে তাঁরা সার্চ করে ইচ্ছামতো তথ্য বের করতে পারবেন। বিরোধী শিবির এই সিদ্ধান্তকে বিরাট বড় জয় হিসাবে দেখেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নভেম্বর থেকে ১৭টি রাজ্যে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হবে স্পেশাল সামারি রিভিশন চালু হবে। নতুন এই সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য, নতুন ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত করা। বাদ পড়া ভোটারদেরও এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। সেটাকেও জয় হিসাবেই দেখেছে বিরোধীরা।
