সৌদি আরবের মক্কায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরামপুর গ্রামের একটি বাড়িতে চলছে মাতম। পরিবারের অভিযোগ, তাদের না জানিয়েই গত বুধবার নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকলেও কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা নেই পরিবারের সদস্যদের। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম।
নজরুল ইসলাম (২৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরামপুর গ্রামের আব্দুল বাছিরের বড় ছেলে। চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় নজরুলকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি। একদিকে ছেলেকে হারানোর শোক, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান নজরুল। সেখানে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে ছিলেন নজরুল।
নজরুলের পরিবারের দাবি, কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রতি রোববার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে মামলার বিস্তারিত তথ্য কিংবা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিবারকে জানানো হয়নি। গত বুধবার গণমাধ্যমের খবর থেকে তারা নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারেন। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও পাননি নজরুল।
নজরুলের মা রহিমা বেগম ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, নজরুলের মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েন তার ফুফু আবেদা বেগম। গত বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।
নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির বলেন, ‘আমার ছেলে কী কারণে জেলে ছিল, তা এখনো জানি না। হঠাৎ ফেসবুকে তার মৃত্যুর খবর দেখতে পাই। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলাম। যাওয়ার ছয় মাস পর থেকেই সে জেলে ছিল। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। এখন ঋণদাতারাও চাপ দিচ্ছেন।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলে যদি বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড পেয়ে থাকে, তাহলে এর বিচার চাই।’
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো আবেদন করা হয়নি। মরদেহ দেশে এলে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।’
