৩৬ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৩৬ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন রিপোর্ট
নির্বাচন কমিশন। ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা ‘নিরপেক্ষ নয়’ অভিযোগ তুলে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী সেখানে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন।
ভোটকেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ জামায়াতের বাকি দুটি দাবি হচ্ছে—নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ইউএনওয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব অভিযোগ করে জামায়াতে ইসলামী। এর আগে দলটির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করে এবং নির্বাচন কমিশনকে নয়টি অভিযোগ ও তিনটি দাবি লিখিতভাবে জমা দিয়েছে।
বৈঠক শেষে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রশাসন, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিরপেক্ষ নয়। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতের কেন্দ্রীয় একটি দল গতকাল ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগগুলো জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের পক্ষে ছবি, আহত ব্যক্তিদের ছবি এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণও দেওয়া হয়েছে।’
তার অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম একটি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘ওই কর্মকর্তা রাতে প্রার্থীর বাড়িতে বৈঠক করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার মতো পোস্ট দিয়েছেন। এ ছাড়া, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, টাকা লেনদেন ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়নি।’
ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে এবং নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন—এমন অভিযোগ জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এ বিষয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। মসজিদের ভেতরে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী সভা, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন প্রতীক ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের আগে মাইক বাজানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।’
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকদেরও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।’
এ ছাড়া, ভোটারদের সেবা দেওয়ার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিভিন্ন ইউনিয়নে মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বাড়ালেই হবে না, দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।
১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনকে মাগুরা নির্বাচনের মতো পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হলে তার পরিণতি সম্পর্কে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন তাদের আশ্বস্ত করার মতো কোনো দৃঢ় পদক্ষেপের কথা জানাতে পারেনি। তবে জামায়াত এখনো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।
বৈঠক শেষে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন নিয়ে বলেন, ‘প্রশাসনে যারা আছেন, তারা নিরপেক্ষ নন। তাদের আচরণ ও ভূমিকার মধ্যে আমরা নিরপেক্ষতা দেখতে পাইনি। আমাদের স্থানীয় নেতাদের মারধর করা হয়েছে, নারীদেরও মারধর করা হয়েছে। অসংখ্য সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটও অভিযোগের সুরাহা করেননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোও আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়েছে। একজন ইউএনও দলীয় স্বার্থে কাজ করেছেন এবং পক্ষপাতিত্ব করেছেন। এমন বহু অভিযোগ রয়েছে। গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযুক্ত হওয়ার পরও তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। আজকেও আমরা সেই দাবি জানিয়েছি।’
উল্লেখ্য, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি শূন্য হয়ে যায়। আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে উপনির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এই উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী ও রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম, বটগাছ প্রতীকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী এবং ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
