Published on
:
2 min read
এই সময়: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে’র (এসআরএফটিআই) পরে এ বার পোস্টার-বিতর্কে উত্তাল প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়। স্বামী বিবেকানন্দের ছবি-সহ এবিভিপি-র একটি ব্যানারে কুরুচিকর শব্দ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার এই ঘটনার প্রতিবাদে এবিভিপি সদস্যরা ডিন অফ স্টুডেন্টস-এর কাছে অভিযোগ জানিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ দেখানোর পরে জোড়াসাঁকো থানায় অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ দেখানোর সময়ে পুলিশের সঙ্গে কার্যত ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় এবিভিপি সমর্থকদের। রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এবিভিপির কয়েকজন সদস্য।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপকদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ডিন অফ স্টুডেন্টস-এর দপ্তর থেকে সিসিটিভি ফুটেজ কমিটিকে দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবজ্যোতি কোনার বলেন, ‘প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় সমস্ত চিন্তাবিদের আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখতে বদ্ধপরিকর। কোনও চিন্তাবিদ, মতাদর্শ বা সংগঠনের প্রতি কোনও রকম অবমাননা আমরা বরদাস্ত করব না।’
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি ইউনিট সভাপতি মৃদুল বণিক জানান, গত জুলাইয়ে আর্টস লাইব্রেরির কাছে তাঁরা ব্যানারটি লাগিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘মঙ্গলবার সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ আমরা দেখি, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি বিকৃত করা হয়েছে। এটি বিবেকানন্দের প্রতি অপমান এবং জাতীয়তাবাদী মানুষদের উপরে সরাসরি আক্রমণ। আমরা নিশ্চিত যে, বামপন্থী মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত ছাত্ররাই আমাদের উস্কানি দিতে এই কাজ করেছে। কারণ, মঙ্গলবারই আমরা এখানে ইউনিট তৈরির অনুমতি পেয়েছি।’
তবে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। এসএফআই-এর প্রেসিডেন্সি ইউনিট সম্পাদক ঊষাশ্রী মিত্র বলেন, ‘আমাদের কোনও সদস্য এর সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা করি। আমরা এবিভিপি-কে গণতান্ত্রিক পরিসরে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করব, এ ধরনের কাজের মাধ্যমে নয়।’ আইসি সদস্য জুলিয়াস আনসারি এটিকে ‘ডানপন্থীদের চক্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের অ্যাকাডেমিক পরিবেশ নষ্ট করতেই তারা এই ছক কষেছে।’
এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘এটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির একটি লজ্জাজনক কাজ। এই চরমপন্থী বাম মতাদর্শ এবং শহুরে নকশালবাদকে সমূলে উৎপাটিত করে এমন শিক্ষা দেওয়া উচিত, যা তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখবে, যাতে এরা আর কখনও রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যকে হুমকির মুখে ফেলতে না–পারে।’
গত মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে যাদবপুর, কলকাতা ও এসআরএফটিআই-এর পড়ুয়াদের নিয়ে একটি সংহতি কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রের ব্যাখ্যা, ‘ঘটনাটি মঙ্গলবার ঘটেছে নাকি তার আগে, এবং এর পিছনে ক্যাম্পাসের পড়ুয়ারা জড়িত নাকি বহিরাগতরা, তা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।’