সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২০ পিএম
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
-->শিল্প-সংস্কৃতি, গ্রামীণ কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। একই সঙ্গে সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রভাব বা ‘সফট পাওয়ার’ জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত Creative Footprints বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথাগত অর্থনৈতিক ভাবনায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে সবসময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেছনে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার এই চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীল অর্থনীতিকে দেশের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃদ্ধির নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে সবকিছু বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই নীতি ও অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং এনজিওগুলোর সাথে শক্তিশালী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই খাতকে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সরকার বাজেটে এর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করেছে এবং বেসরকারি খাতও এতে বড় ধরনের অর্থায়ন করতে এগিয়ে আসছে।
সৃজনশীল খাতের প্রসারে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশীয় কারুশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইনিং, ব্র্যান্ডিং এবং আমাজন, ইবে ও আলিবাবার মতো আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপণন সহায়তা প্রদান করা হবে। এতে করে দেশের প্রান্তিক শিল্পী ও কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্যের সঠিক মূল্যায়ন ও নগদায়ন সম্ভব হবে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখবে।
বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক উপাদানের গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল শিল্প, কারুশিল্প বা ব্যবসা নয়; এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ‘সফট পাওয়ার’। সঙ্গীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে নিজস্ব অবস্থান শক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এনামুল হক।
এসএন/
আরও পড়ুন
খেলোয়াড়দের অবসরকালীন ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের: হুইপ দুলু
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০০ পিএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ছবি: সংগৃহীত
-->বিভিন্ন ইভেন্টের খেলোয়াড়দের অবসরকালীন ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
তিনি বলেন, ‘খেলাধুলাকে উৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারাদেশে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।’
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাগাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল, মাদক ছেড়ে মাঠে চল’ স্লোগানে আয়োজিত কাজল আহমেদ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর চূড়ান্ত খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ দুলু বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখতে পারলে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখা সহজ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব মাঠে স্টেডিয়াম নির্মাণের মাধ্যমে নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান। এ সময় ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক বিএনপি সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, পর্তুগাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজল আহমেদ, ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন, পান্না গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিয়ান খানসহ মধুখালী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
টুর্নামেন্টে দেশের আটটি জেলা থেকে আটটি দল অংশ নেয়। চূড়ান্ত খেলায় গোপালগঞ্জ একাদশ ৩-১ গোলে নড়াইল একাদশকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়।
এনকেবি নয়ন/রিফাত/
আরও পড়ুন
সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জনগণের সর্বশেষ আস্থা ও ভরসার দুটি জায়গা হচ্ছে— সুপ্রিম কোর্ট ও সশস্ত্র বাহিনী। কিন্তু বর্তমানে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে মারাত্মকহারে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে অপপ্রচার থেকে মুক্ত রাখতে হবে। এছাড়া অপতথ্য মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রস্ততির তাগিদ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইএনএসএস) আয়োজনে ‘মিথ্যা ও অপতথ্য: জাতীয় নিরাপত্তার ওপর হুমকি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিশিষ্ট অধ্যাপক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমিনুল করিম (অব.)।
সেমিনারের আহ্বায়ক ছিলেন বিআইএনএসএসের সদস্যসচিব মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। এতে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী এবং নীতি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এতে নিরাপত্তা বিশ্লেষক আবু রুশদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেকে পর্যটকদের জিম্মি করা এবং সেনাবাহিনীর ওপর আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের গুলি চালানোর ঘটনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। তার অভিযোগ, আন্দোলনের নামে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা তিন হাজার পর্যটককে জিম্মি করে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেছে। অথচ কয়েকটি গণমাধ্যম অভিযুক্তদের ‘আন্দোলকারী’ হিসেবে উপস্থাপন করে সহানুভূতি তৈরির চেষ্টা করেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আধুনিক যুদ্ধ এখন আর শুধু প্রচলিত সামরিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাইবার হামলা, অর্থনৈতিক চাপ, কূটনৈতিক কৌশল, প্রচার ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযানকে একসঙ্গে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, জনগণের চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তথ্যের আংশিক উপস্থাপনকে তিনি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করে এ বিষয়ে বিশেষ মহড়া আয়োজনের সুযোগ ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগানো গেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে অপতথ্য ও প্রচারণা মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও জোরদার করা যেত। এখন আর সময় নষ্ট না করে কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হবে। কৌশলগত পর্যায়ে ‘পিপলস ওয়ার ডকট্রিন’বা জনযুদ্ধের মতবাদ নিয়ে কাজ করা, পরিচালনাগত পর্যায়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা এবং মাঠপর্যায়ে যুদ্ধের পরিবর্তিত ধরন অনুযায়ী কৌশল ও কার্যপদ্ধতি হালনাগাদ করা প্রয়োজন। সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সক্ষমতাও জোরদার করতে হবে।
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমিনুল করিম বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাব ও অপপ্রচার থেকে মুক্ত রেখে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন হয়, অপতথ্য ঢুকে গেলে তা কঠিন হয় পড়বে। ফলে গুজব সনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আগে জনগণকে সত্য তথ্য পৌঁছে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সেমিনারে মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই জনগণকে সঠিক তথ্য জানানো বেশি কার্যকর। অপতথ্য প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সেমিনারে ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডির গবেষণা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. আবদুল্লাহ আল ইউসুফ বলেন, মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনমত নিয়ন্ত্রণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা কমানো এবং জাতীয় ঐক্য দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ ধরনের অপতথ্য জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সংগঠিত অপতথ্য প্রচারণার জবাবও সংগঠিতভাবে দিতে হবে।
সেমিনারে ‘প্যানেল ডিসকাশনে’ দ্য ইরাবতির বাংলাদেশ প্রতিনিধি সাংবাদিক মুক্তাদির রশিদ রোমিও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে কোন ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে আছে, সেটাও সবাইকে বুঝতে হবে। অপতথ্য বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রচার হচ্ছে। এমনকি বাহিনীর এক শ্রেণির কর্মকর্তারাও গুজব বা অপপ্রচারমূলক তথ্য ছড়িয়ে থাকেন। সার্বিকভাবে চিন্তা করে একটি ওয়েবসাইট করা যায়, যেখানে গুজব বা অপপ্রচারমূলক তথ্যের যাচাই করার সুযোগ থাকবে।
এতে সাংবাদিক শাহেদ আলম বলেন, মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করা জরুরি।
আলমগীর হোসেন/এসএন
আরও পড়ুন
সংবিধান সংশোধনে নোট অব ডিসেন্ট পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে বললেন সালাহউদ্দিন আহমদ
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
-->বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টে (ভিন্নমত) কোনো পরিবর্তন চাইলে বিরোধী দলগুলোকে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে এসে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবিধান বিশেষজ্ঞ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সঠিক প্রক্রিয়ায় সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করেছিল। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সে পথে হাটবে না।
তিনি আরও বলেন, আজকের বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-আর্টিকেল ৭০-প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়াও, আইন, শাসন ও বিচার বিভাগসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
এসএন/
আরও পড়ুন
যানজট, দূষণ ও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে গাজীপুরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার তাগিদ
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->গাজীপুরে যানজট নিরসন, পরিবেশ রক্ষা ও পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে আগামী ১০০ বছরের কথা বিবেচনায় নিয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যসহ বিশিষ্টজনেরা। একই সঙ্গে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বচ্ছ মূল্যায়ন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল গাজীপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত ‘দৃশ্যমান সমস্যা অবারিত সম্ভাবনার গাজীপুর’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল খান। এতে যানজট, শিল্পবর্জ্য, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, মাদক, কিশোর গ্যাং, বনভূমি দখল ও কৃষিজমি ভরাটসহ জেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, শ্রীপুরের সাতখামাইর ও ইজ্জতপুর রেলস্টেশন চালু এবং প্রয়োজনীয় ট্রেনের যাত্রাবিরতির সুপারিশও করা হয়।
মূল প্রবন্ধে বিআরটি প্রকল্প বাতিল ও নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। প্রকল্পটি কেন বাতিল করা হয়েছে, তা জনসমক্ষে প্রকাশ এবং অনিয়ম, দুর্নীতি বা পরিকল্পনাগত ত্রুটি থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করার সুপারিশ করা হয়।
বক্তারা বলেন, গাজীপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এবং ১৮ জেলার মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ গাজীপুরে বসবাস করেন। তাই জনসংখ্যা ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জেলার উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা করতে হবে। বিআরটি প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল বলে এসময় উল্লেখ করেন তিনি। মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন এই সংসদ সদস্য।
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়েই জেলায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। আগামী ১০০ বছরের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা না করলে একসময় গাজীপুর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।
গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান বলেন, যানজট নিরসনের জন্য বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হলেও এতে সমস্যার সমাধান হয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী বলেন, বিআরটি প্রকল্পের পরিবর্তে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা দরকার। তিনি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে গাজীপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ, বাসভাড়া কমানো এবং মাদক নির্মূলে পুলিশের সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি জয়দেবপুরে পার্ক নির্মাণ ও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কাপাসিয়া পৌরসভা গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া, গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশিতা এবং সাংবাদিক ফোরামের নেতারা।
আনিসুর রহমান তপন/এসএন
