জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাঁদা দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে সাংবাদিক আকন্দ সোহাগের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপি নেতা মো. আবু সাঈদ সুজন (৩৬)। গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় মাদারগঞ্জ মডেল থানায় তিনি এ অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে কালবেলার প্রতিনিধি আকন্দ সোহাগকে (২৭) বিবাদী করা হয়েছে। তিনি উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ আইগেনি পাড়া এলাকার হোসেন আলী আকন্দের ছেলে।
অভিযোগপত্র ও অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আবু সাঈদ সুজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুজনের অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরে আকন্দ সোহাগ তাঁর বাড়িতে গিয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সোহাগ ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও অপপ্রচারের হুমকি দেন। পরে সোহাগের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে নিয়ে অশ্লীল ও মানহানিকর বার্তা এবং পোস্ট প্রচার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, প্রায় তিন মাস আগে আকন্দ সোহাগের বিরুদ্ধে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় চাঁদাবাজির আরেকটি অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের এক জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সাংবাদিকতার নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আকন্দ সোহাগকে সংগঠনটির সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী আবু সাঈদ সুজন বলেন, “এ ধরনের ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের কারণে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে আমার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আকন্দ সোহাগ। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমি তাঁর (আবু সাঈদ সুজন) বাড়ি চিনিই না, সেখানে চাঁদাবাজির জন্য কেন যাব? আমি শুধু তাঁর বক্তব্য ফোনের মাধ্যমে নিয়েছিলাম, যার প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়ে আমি বিচলিত নই এবং এতে আমার কোনো সমস্যা হবে না।”
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবুল হাসেম জানান, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
The post মাদারগঞ্জে সাংবাদিক আকন্দ সোহাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ appeared first on ভোরের চেতনা.
