বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানাধীন সম্পত্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে তা রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় কোনো সম্পদ আর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেওয়া হবে না। নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রায় ১০ একর জমি ও পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের ১৭ বছরে আমরা দেখেছি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদগুলো পরিত্যক্ত ফেলে রাখা হয়েছিল। এসব সরকারি সম্পত্তি বিক্রি বা অকেজো করে রেখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে শূন্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি চক্রান্ত করা হয়েছিল।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কথা উল্লেখ করে আহমেদ আযম খান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল–সরকারের সব স্থাপনা ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সেই পুরোনো চক্রান্তের পথ থেকে বেরিয়ে এসেছি। একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে এ বিশাল সম্পত্তিকে অকেজো ফেলে রেখে রাষ্ট্রের ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না।
১০ একর জমি দ্রুত কাজে লাগানোর আশ্বাস দিয়ে তিনি আরও বলেন, ঢাকায় ফিরে নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। রাষ্ট্রের স্বার্থ, এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কর্মসংস্থান এবং এই জমির সর্বোত্তম ব্যবহার–এই তিনটি বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে সবচেয়ে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
পরিদর্শনকালে সফরসঙ্গী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, দুই দিনের চট্টগ্রাম সফরে কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনস্থ অন্যান্য সম্পত্তিগুলোও সরেজমিনে পরিদর্শন করে পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাঙ্গুনিয়ার পরিত্যক্ত এই কারখানার প্রয়োজনীয় তথ্য–উপাত্ত পর্যালোচনা ও ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ (সম্ভাব্যতা যাচাই)-এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে গঠনমূলক ও উৎপাদনশীল কী ধরনের প্রকল্প নেওয়া যায়, তা দ্রুত নির্ধারণ করা হবে।
ইস্টার্ন কেমিক্যালস পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরবর্তীতে তারা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

