Published on
:
3 min read
অঞ্জন চক্রবর্তী
অন্য সময় প্রাইম: পুজো কেমন কাটল?
সন্দীপ্তা: খুবই ভালো কেটেছে। অল্প কাজ করেছি, পাশাপাশি পরিবার, বন্ধুদের সঙ্গেও সময় কাটাতে পেরেছি। ‘বীরাঙ্গনা ২’ নিয়ে খুব ভালো রেসপন্স পাচ্ছি, পুজোর বিগেস্ট ওপেনিংও হয়েছে সিরিজ়টির। উপরি পাওনা, নেটফ্লিক্স-এ ‘ম্যাডাম ইন্সপেক্টর’ ট্রেন্ডিং লিস্টে জায়গা করে নেওয়া।
অন্য সময় প্রাইম: নতুন চুক্তির সুবাদে বাংলার অভিনেতাদের কাজের সুযোগ কি বাড়বে?
সন্দীপ্তা: ‘হইচই’-এর এই চুক্তিকে দারুণ সুযোগ হিসেবেই দেখছি। বাংলা ভাষায় তৈরি কাজগুলো শুধু বাংলাভাষীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, এবার আরও বেশি মানুষের কাছে তা পৌঁছে যাবে। হিন্দি-সহ কয়েকটি ভাষায় সব ক’টি কাজ দেখতে পাবেন দর্শকরা। বলা যায়, বাংলা ভাষার কাজ গ্লোবালি মানুষের দেখার একটা দারুণ সুযোগ তৈরি হলো। অভিনেতা হিসেবে তো অবশ্যই চাইব, দশজনের জায়গায় একশোজন দর্শক কাজটা দেখুন। ভারতে প্রথমবার এ রকম ওটিটি পার্টনারশিপ হয়েছে। বিষয়টা প্রমাণ করে, বাংলায় ভালো কাজ হচ্ছে।
অন্য সময় প্রাইম: পুজোর পরে কি জিমে বেশি সময় কাটছে?
সন্দীপ্তা: আমি তো জিম করি না। ওটা আমার জন্য নয়। আমি যোগ, নাচ ও ডায়েট করি। আর এক ইঞ্চি চেহারা বেড়ে গেল কি না, তা নিয়ে আমি চিন্তিত হয়ে পড়ি না। যদি ওয়েট বেড়েও যায়, সেটাকে শান্ত মাথায় ডিল করেই কমিয়ে ফেলি। পুজোর সময়ে খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম হয়েছে, তাই এবার নর্মালি যেটা করার সেটাই করব। বাড়তি চিন্তিত না হয়ে।
অন্য সময় প্রাইম: চেনা ছক পেলে কী অভিনেতাদের সুবিধে হয় নাকি টাইপকাস্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে?
সন্দীপ্তা: একই চরিত্র বারবার ফুটিয়ে তুলতে হলে সেটা টাইপকাস্ট হওয়া বলে মনে হয় না। কারণ, দর্শকরা পছন্দ করছেন বলেই তো সেই চরিত্রটাকে বারবার তাঁদের সামনে ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে। আর অন্য চরিত্রেও তো কাজ করছি। তবে মানুষের যাতে আরও ভালো লাগে তা নিয়ে এবার আরও বেশি ভাবতে হয়েছে। এবারে ট্যুইস্ট অ্যান্ড টার্ন অনেক বেশি ছিল, তাই অভিনেত্রী হিসেবে ইমপ্রুভ করতে হয়েছে।
Ei Samay
অন্য সময় প্রাইম: অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেন কি মনে করেন টলিউড তাঁকে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পেরেছে?
সন্দীপ্তা: ২০০৮ থেকে কাজ করছি। এটুকু বলতে পারি, দর্শকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। যে কাজগুলো করেছি, সেগুলো সবকটা দারুণ ভাবে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে। সুপারহিট হয়েছে। কমার্শিয়াল ফিল্মে বা বড় ব্যানারে মুখ্য চরিত্রে কাজের ক্ষেত্রে বলতে পারি, প্রচুর পরিচালকের সঙ্গে কাজ নিয়ে কথা হয়েছে। অনেকে একসঙ্গে প্রজেক্ট করার কথা বললেও কাজের ফোনটা আমার কাছে আসে না। অনেক কাজ ছাড়িও। তবে ভালো কাজ পাওয়ার ইচ্ছে তো সব অভিনেতারই থাকে, আমারও সেটা রয়েছে। তবে যে কাজগুলো করছি তা নিয়ে আমি খুশি, স্যাটিসফায়েডও। আর মানুষের ভালোবাসাই তো সবথেকে বড় পাওনা।
অন্য সময় প্রাইম: পর্দায় পুলিশ হয়ে ওঠার পথে তাঁদের সম্পর্কে কী জানলেন?
সন্দীপ্তা: আগের বছর আলিপুর জেলে ট্রেলার লঞ্চের সময়ে কলকাতা পুলিশের অনেক মহিলা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তাঁদের জার্নি শুনে সত্যিই খুব অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। আমাদের প্রত্যেকের কাছেই জীবনের স্ট্রাগলে আমরাই হিরো। তবে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছিল, আমরা এমন কী আর পরিশ্রম করছি। পুজোর সময়েও পুলিশদের কথা ভাবুন, সারাক্ষণ ভিড়, গাড়ি সামলাতে হচ্ছে। চেয়েও হয়তো পরিবারকে সময় দিতে পারেন না।
অন্য সময় প্রাইম: সমাজে কোনটা শোভন আর কোনটা অশোভন, সেটা নিয়ে বার্তা রয়েছে আপনাদের সিরিজ়ে, এই পার্থক্য আদৌ করা সম্ভব?
সন্দীপ্তা: সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্ট সেকশন দেখলে বোঝা যায়, শুধুমাত্র পুরুষরা নন, অনেক মহিলাও নানা রকম কুরুচিকর মন্তব্য করেন। তাই কোনটা শোভন আর কোনটা অশোভন, সেটা আসলে মানসিকতার বিষয়। কারণ, বোরখা পরে রাস্তায় বেরোনো কেউ হোক বা বাচ্চাদেরও নির্যাতিত হতে দেখি আমরা। তাই এ রকম কোনও লাইন রয়েছে বলে বিশ্বাস করি না। সিরিজ়ে এক জায়গায় এটাও বলা রয়েছে, আপনাদের যা দেখতে ইচ্ছে করছে না, সেটা দেখবেন না। সেই অপশন তো প্রত্যেকের কাছেই রয়েছে। কেউ যেটাকে অশোভন তকমা দিচ্ছেন, হয়তো তেমন জিনিস বারবার দেখেন বা পছন্দ করেন বলেই তাঁদের অ্যালগরিদমের হিসেবে তেমন কনটেন্টই সামনে আসতে থাকে।
Ei Samay
অন্য সময় প্রাইম: নেতিবাচক কমেন্ট বা ট্রোলিং মন থেকে ঝেড়ে ফেলেন কী ভাবে?
সন্দীপ্তা: অভিনেত্রীর পাশাপাশি সাইকোলজিস্ট হিসেবেও একটা জিনিস বলতে পারি, প্রথম দিকে অদ্ভুত লাগলেও পরে বুঝেছি, কিছু মানুষের সত্যিই কাজ নেই। ছোটবেলায় সবাই দেখেছি, পাড়ার চায়ের দোকানে বসে কিছু মানুষ সবার ব্যাপারে বিচিং করছেন। তেমনটাই এখানেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তো বিষয়টা আরও সোজা, সামনাসামনি না হয়েই যা ইচ্ছে বলে দেওয়া যায়। সেই মানুষটা সামনে দাঁড়িয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে কিন্তু ওই নোংরা কথাগুলো বলতে পারবেন না, যতটা সহজে স্ক্রিনের আড়াল থেকে সে বলতে পারছেন।
