ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি মস্কো। রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে শুধু ভোটের দিন হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিষয়ে পেসকভ বলেন, রাশিয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত মস্কো।
এর আগে রোববার এবিসির ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে জেলেনস্কি বলেন, পুতিনকে দুই মাস সময় দিতে বলুন। ৬০ দিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেন নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে।
জেলেনস্কির প্রস্তাবের জবাবে পেসকভ বলেন, কিয়েভ যদি সত্যিই নির্বাচন আয়োজন করতে চায়, তাহলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে পুতিন সেদিন হামলা না চালানোর নির্দেশ দিতে প্রস্তুত থাকবেন। তবে এই সিদ্ধান্ত শুধু নির্বাচনের দিনের জন্য প্রযোজ্য হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে রাশিয়া। মস্কোর বক্তব্য, নির্বাচন না হওয়ায় জেলেনস্কির প্রেসিডেন্ট হিসেবে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে ইউক্রেনের আইনে যুদ্ধকালীন সময়ে নির্বাচন আয়োজনে বিধিনিষেধ রয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলারও সমালোচনা করেছেন তিনি।
শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তাঁর মনে হয়, ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।
এর এক দিন আগে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তির ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহে মার্কিন বাধা তুলে নেওয়ায় মস্কো ইউক্রেনে আরও হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে।
এমএ
