বিশ্বকাপে ‘সেই ম্যাচে’ কী হয়েছিল, জানালেন মার্টিনেজ
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে শিরোপা জয় থেকে এককদম দূরে ছিল আর্জেন্টিনা। শেষপর্যন্ত স্পেনের বিপক্ষে পেরে ওঠেনি আলবিসেলেস্তে দল। শেষ লড়াইয়ের আগে দেশটি সেমিতে হারিয়ে এসেছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে। যে ম্যাচের আগে-পরে বেশ আলোচনায় এসেছিল ফকল্যান্ড ইস্যু। সেটাকে কীভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন, তিনমাস পর খোলাসা করলেন লৌতারো মার্টিনেজ।
১৫ জুলাই আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১ গোলে পিছিয়ে পড়েও ২-১এ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মার্টিনেজের ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের গোলে মহাকাব্যিক জয় পায় লিওনেল মেসির দল। পরে মাঠে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা।
মাঠের ভেতর উল্লাসের একপর্যায়ে গ্যালারি থেকে সমর্থকদের ছুঁড়ে দেয়া একটি ব্যানার হাতে তুলে নেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা, যাতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল ‘লাস মালভিনাস সন আর্হেনতিনাস’। বাংলা অর্থ, ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’
এএফএ স্টুডিওকে সাক্ষাৎকারে সেই ম্যাচে জয়সূচক গোল করা মার্টিনেজ বলেছেন, ‘এটা তাদের অবদান (ফকল্যান্ডে আর্জেন্টাইন সৈনিক), সেসময় তারা যেভাবে আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। সেজন্যই গোলটি তাদের উৎসর্গ করেছি। তারা এখন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সাথে নিজেদের একাত্ম মনে করতে পারছেন। এটি আমাদের সাম্প্রতিক সময়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। আমরা আজ যে পুরস্কার, স্বীকৃতি, প্রশংসা ও ভালোবাসা পাচ্ছি, তার সবই সম্ভব হয়েছে তারা আমাদের লড়াই করতে শিখিয়েছিলেন।’
‘ক্যামেরার সামনে আমাদের স্বাভাবিক আচরণ বজায় রাখতে হয়েছিল, কারণ এটি ছিল একটি ফুটবল ম্যাচ। কিন্তু অন্তরের গভীরে এটি সাধারণ কোন ম্যাচ ছিল না। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটি ছিল অত্যন্ত বিশেষ। ফকল্যান্ডের বিষয়টি এই ম্যাচে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল। যা মাঠে নামার সময় বাড়তি উদ্দীপনা ও ইতিবাচক শক্তি জুগিয়েছিল। এমন ম্যাচে অত্যন্ত প্রয়োজন।’
‘আমার সারাজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে (৯২তম মিনিটে করা সেই গোল)। দিনগুলোর তীব্রতা এবং ফাইনাল ম্যাচ খুব কাছে চলে আসায় বুঝতে পারিনি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ একটি গোল করেছি। পরে যখন দেশে ফিরলাম এবং আর্জেন্টাইন ভক্তদের সাথে দেখা হল, তারা আমাকে ধন্যবাদ জানালেন। তখন বুঝতে পারলাম, সেই গোলটির প্রকৃত তাৎপর্য কী ছিল।’
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
