জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এ বার ‘সুপ্রিম কোর্ট চলো’ কর্মসূচি শুরু করলেন রাহুল গাঁধী-সহ বিরোধী নেতারা। কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে বাসে চেপেছেন তাঁরা। শেষ মেলা খবরে সেই বাস রয়েছে বরাখাম্বা রোডে। সেখান থেকে তিলক মার্গ, যেখানে রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, তার দূরত্ব ২ কিলোমিটার। পায়ে হাঁটে মিছিল করছেন শয়ে শয়ে রাজনৈতিক কর্মীরা।
বাসে রাহুলের সঙ্গে রয়েছে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, লিবারেশন নেত্রী নেহা বোরা। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা তেজস্বী যাদব।
দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দেয় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। রবিবারই তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি কান্ত। সূত্রের খবর, বিরোধী শিবিরের আবেদনের জবাবে মূলত চারটি বিষয় উত্থাপন করেন তিনি। কেন দেখা করতে পারবেন না, ব্যাখ্যা করেন যুক্তি দিয়ে।
প্রথমত, বিচারপতি কান্ত তাঁদের জানিয়েছেন, এই সমস্ত অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা শীর্ষ আদালতে ইতিমধ্যে বিচারাধীন রয়েছে। তাই আদালতের বাইরে তা নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়।
দ্বিতীয়ত, দেশের সাংবিধানিক কাঠামো বিরোধীদের মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযোগ বিবেচনা করা বা তার ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করা আদালতের প্রশাসনিক এক্তিয়ারের আওতায় নেই।
তৃতীয়ত, প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, দেশের সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং অন্যান্য ধারার অধীনে আদালতের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা রয়েছে। তাই সোমবার যদি এই অভিযোগগুলি নিয়ে কোনও আবেদন বা মামলা করা হয়, তবে পরের দিন, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের তালিকাভুক্ত মামলাগুলির পরবর্তী শুনানির দিন তা গ্রহণ করা হবে।
চতুর্থত, দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট যে দায়বদ্ধ, তা বিরোধীদের চিঠিতে উল্লেখ করেছেন বিচারপতি কান্ত। জানিয়েছেন, নাগরিকদের জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা আছে।
এ প্রসঙ্গে সোমবার সাংবাদিকদের সামনে বিচারপতি কান্ত বলেন, ‘‘আমি চিঠি পেয়েছি। রাতেই তার জবাব দিয়েছি। কেন দেখা করতে পারব না, কিছু কারণ জানিয়েছি। চিঠিতে কী আছে, সেটা বলব না। ওঁদের জিজ্ঞেস করে নিন। সুপ্রিম কোর্টের দরজা সকলের জন্য খোলা আছে। সাধারণ মানুষ হোন বা নির্বাচিত সদস্য, যে কেউ যে কোনও আবেদন নিয়ে আমাদের কাছে আসতে পারেন। ভারতের যে কোনও নাগরিকের অধিকার আছে আদালতে আসার। আইন অনুযায়ী আমরা তাঁদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব এবং তাঁদের অধিকার সুনিশ্চিত করব।’’
প্রধান বিচারপতি নিজের যুক্তি দিলেও সোমবার অভিযানে নামে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির নেতা।
