Published on
:
1 min read
এই সময়, বর্ধমান: ডিজিটাল তথা এআই বিপ্লব ও আধুনিক মুদ্রণ প্রযুক্তির দাপটের যুগেও ঐতিহ্য বজায় রেখে একটানা ৭৯ বছর ধরে হাতে লেখা শারদীয় পত্রিকা প্রকাশ করে নজর কাড়ছে পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার আনগুনা গ্রাম। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময়ে একদল যুবকের হাত ধরে যে পত্রিকার যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬-এ এসেও একই ভাবে অক্ষুণ্ণ রয়েছে সেই পরম্পরা।
আনগুনা গ্রামের ‘প্রভাত স্মৃতি সঙ্ঘ’র উদ্যোগে প্রতি বছর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন আত্মপ্রকাশ করে বিশেষ হাতে লেখা ‘শারদীয় প্রভাত পত্রিকা’। আট ইঞ্চি বাই ১২ ইঞ্চি মাপের আর্ট পেপার কেটে, রঙিন আঁকিবুকি ও অলঙ্করণে সাজিয়ে তৈরি ২০০-রও বেশি পাতার এই পত্রিকার ঐতিহ্যকে আজও টিকিয়ে রেখেছেন গ্রামের সাহিত্যপ্রেমী যুবকেরা।
এ বারের ৮০তম বর্ষের পত্রিকা প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন। পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা সৌমজিৎ দাঁ বলেন, ‘আমাদের গ্রামের সবার সহযোগিতা আর মূলত কয়েকজন ছেলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই পত্রিকা প্রকাশনা হচ্ছে। অনেকেই পড়াশোনার ফাঁকেও হাতের লেখায় লিখে চলেছেন।’ সম্পাদনায় সৌমজিতের সঙ্গে রয়েছেন উজ্জ্বল বারিক, স্বরাজবন্ধু হাজরা ও দীপঙ্কর রায়। এ বারের প্রচ্ছদ এঁকেছেন সৌমেন্দু চক্রবর্তী। আজ, রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় ঘটা করে প্রকাশিত হবে ঐতিহ্যবাহী এই পত্রিকা।
এই পত্রিকার মূল আকর্ষণ এর গৌরবময় ইতিহাস। কাজী নজরুল ইসলাম, কবি কালীদাস রায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায়, নবনীতা দেবসেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বদের লেখায় অতীতে সমৃদ্ধ হয়েছে ‘শারদীয় প্রভাত পত্রিকা’। সেই সব ঐতিহাসিক সংখ্যা এখনও সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানেও খ্যাতিমান লেখকদের পাশাপাশি আনগুনা ও আশপাশের গ্রামের বহু উদীয়মান কবি ও সাহিত্যিকের লেখা সমান গুরুত্ব পায় এখানে।
