রাতের আকাশে পুঞ্জীভূত মেঘের মধ্যে থেকে অপার্থিব আলোর বিচ্ছুরণ। বেগনি, হলুদ, সবুজ রঙের আলোকরশ্মি ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মেঘের আড়াল থেকে দেখা যায় মোহময় আলোর ছটা। সেই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। তা নজর কেড়েছে সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও। তবে সেগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
এই মেরুপ্রভা মূলত সুমেরু অঞ্চলের কাছাকাছি দেখা যায়। তবে ফিনল্যান্ড-সহ ইউরোপের অন্যান্য অংশ এবং ব্রিটেন জুড়ে আকাশ আলোকিত হয়েছিল মেরুপ্রভায়। ব্রিটেনে ডেভন, হ্যাম্পশায়ার এবং কেন্টের মতো সুদূর দক্ষিণাঞ্চলের আকাশ পর্যবেক্ষকেরাও এই চোখধাঁধানো প্রাকৃতিক ঘটনাটির সাক্ষী হয়েছেন, যা ‘অরোরা বোরিয়ালিস’ নামেও পরিচিত।
ফিনল্যান্ডের ল্যাপল্যান্ডের আকাশে ‘নর্দার্ন লাইটস’-এর অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখে নেটাগরিকদের অনেকেই সেটিকে ‘আলোর প্রদর্শনী’ বলে উল্লেখ করেছেন। রাতের আকাশে সবুজ এবং লাল রঙের উজ্জ্বল আভা দেখা গিয়েছে ভিডিয়োয়। রোভানিয়েমির কাছে চিত্রগ্রাহক আলেকজান্ডার কুজনেতসভ এই ‘অরোরা’র ছবিটি তোলেন। খবর, প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে দেখা গিয়েছিল ওই দৃশ্য। কুজনেতসভ এটিকে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেখা একই ধরনের ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের পর তার দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী প্রদর্শনী বলে বর্ণনা করেছেন। ইউরোপের অন্যান্য অংশেও ‘অরোরা’ দেখা গিয়েছে বলে খবর। ফলে এই বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগও পেয়েছেন আকাশ পর্যবেক্ষকেরা।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকলে এ ধরনের দৃশ্য দেখা যেতে পারে। এই ধরনের ঘটনা প্রধানত সুমেরু বৃত্ত এবং উত্তর স্কটল্যান্ডের কাছাকাছি দেখা যায়। সৌরবায়ুর কণা (যা আদতে ইলেক্ট্রন এবং প্রোটনের স্রোত)-র যখন পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংযোগ ঘটে, তখন মেরুপ্রভা তৈরি হয়। সৌরঝড় পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রে ধাক্কা দিলে দেখা যায় এই মেরুপ্রভা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, শুক্র-শনিবার রাতে সৌরঝড় তীব্র পর্যায়ে পৌঁছোয়। সে কারণে ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় ওঠে। তা দেখা যায় ইউরোপ এবং ব্রিটেনের একাধিক অঞ্চল থেকে।
সৌরবায়ুর কণা (যা আদতে ইলেক্ট্রন এবং প্রোটনের স্রোত)-র যখন পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংযোগ ঘটে, তখন মেরুপ্রভা তৈরি হয়। সূর্যের করোনা থেকে উদ্গত হয় সৌরবায়ু। এর ফলেই আকাশে সবুজ, লাল, বেগনি রং খেলা করে। দেখে মনে হয়, আকাশে যেন নাচছে আলো। সোমবার এই অরোরা দেখা গিয়েছে ফিনল্যান্ড-সহ ইউরোপের একাধিক জায়গায় এবং ব্রিটেনেও। গত বছর বিশেষজ্ঞেরা বলেছিলেন, ২০২৬ সাল হবে অরোরা দেখার জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ বছর। কারণ সূর্যের ১১ বছরের প্রাকৃতিক চক্রের অংশ হিসেবে এটি অনেক বেশি সক্রিয় অবস্থায় থাকবে।
