Published on
:
2 min read
দেখতে দেখতে ছ’বছর, ‘ইগনাইট ইভি বার্লিন’-এর উদ্যোগে জার্মানির মাটিতে পূজিত হচ্ছেন উমা। ইচ্ছে থাকলেও যাঁদের প্রতি বছর ঘরে ফেরা হয় না, এই পুজো প্রবাসেও তাঁদেরকে শিকড়ের কাছাকাছি নিয়ে আসে। পুজোর ক'টা দিন দেশের বাইরে থেকেও আপন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নিয়ে মেতে ওঠেন প্রবাসী বাঙালিরা।
২০২০-তে শুরু বার্লিন সর্বজনীন দুর্গোৎসব এ বার ছ’বছরে পা রাখতে চলেছে। পঞ্চমী থেকে দশমী — ছ’দিন ধরে হইহুল্লোড়ের সঙ্গে প্রতিদিনই থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলকাতার কুমোরটুলি থেকে আসা প্রতিমায় সেজে উঠবে ইগনাইটের পুজো মণ্ডপ। পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবেন জার্মানির ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকরা। তবে এ বছরে মূল আকর্ষণ হতে চলেছে অষ্টমীর সন্ধে। সে দিন বাংলা ব্যান্ড ‘লক্ষ্মীছাড়া’র পারফর্ম্যান্সে মাতবেন বার্লিনের বাঙালিরা।
সংস্থা জানাচ্ছে— জার্মানির মাটিতে ওই ব্যান্ডের এটিই হবে প্রথম অনুষ্ঠান।
ব্যান্ড পারফর্ম্যান্স ছাড়াও থাকবে ইগনাইট-এর সদস্য ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা। বিদেশের অনেক পুজোই সপ্তাহের শেষে হয়ে থাকে। কিন্তু বাঙালিয়ানার আমেজ আনতে টানা ছ’দিন ধরেই উৎসবের আয়োজন করে এই নন-প্রফিট সংগঠনটি। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনেই হয় পুজোর সব আয়োজন। কুমারী পুজোয় হয় সেখানে।
এই ছ'দিন আনন্দ হবে, আর ভূরিভোজ হবে না? বাঙালি খাবারের সঙ্গে বিদেশি খাবার-দাবার তো বছরভরই চলতে থাকে। তবে পুজোর দিনগুলো ডায়েট ভুলে কব্জি ডুবিয়ে চলবে লুচি-বেগুনভাজা, কোনও দিন খিচুড়ি-লাবড়া আবার পোলাও-আলুরদমে জমবে পুজোর এই ছ’দিন।
তবে ইগনাইট ইভি-র এই দুর্গাপুজো শুধু বাঙালি বা হিন্দুদের উৎসবেই সীমাবদ্ধ নেই। সেখানকার স্থানীয় সব ধর্ম, সংস্কৃতির মানুষ এই ক’টা দিন মেতে ওঠেন পুজোর আনন্দে। শুধু জার্মানি নয়, পড়শি দেশ থেকে আসা মানুষও ভিড় জমান এই দুর্গাপুজোয়। আট-থেকে আশি — সবাই মাতেন আনন্দে। প্রতিবারই হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর ভিড় জমে সেখানে। গতবার প্রায় ছ'হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল বার্লিন দুর্গোৎসবে। তবে আসন্ন পুজোয় সেই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের।
