রাজধানীর আদাবরের সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে অভিযুক্তকে বাঁচাতে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা এবং পরিবারকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আদাবরের এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) এই ঘটনা ঘটে। সেদিন ভবনের দ্বিতীয় তলার করিডরে পায়চারি করছিল সাত বছরের শিশুটি। কিছুক্ষণ পর ১৯ নম্বর কক্ষে উঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায় সে। শিশুটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পাশের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন দুই নারী। এরপর এগিয়ে গিয়ে যা দেখেন, তাতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তারা।
ঘটনার বর্ণনায় প্রত্যক্ষদর্শী নারী জানান,‘বাচ্চাটি চিৎকার করছিল। তখন আমি গিয়ে দেখি, বাচ্চাটির বুকের ওপর তার পা।’
এরপর আশপাশের বাসিন্দারা জড়ো হয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে দরজা খোলেন অভিযুক্ত কামাল। পরে শিশুটিকে খাটের নিচ থেকে বের করা হয়। অভিযোগ, ওই কক্ষেই ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি।
তিনি আরও জানান, ‘প্রথমে দরজা খোলা হচ্ছিল না। অনেকবার ডাকাডাকি করার পর দরজা খোলা হয়। দরজা খোলার পর তিনি বলেন, ‘কোনো বাচ্চা ঢোকেনি। কিসের বাচ্চা? এখানে কোনো বাচ্চা নেই।’
ঘটনার সময় শিশুটির মা ছিলেন কর্মস্থলে। অভিযোগ, তিনি ফিরে এলে ভবনটির ম্যানেজার তাকে নিয়ে যান স্থানীয় যুবদল নেতা জালাল মাতব্বরের কাছে। সেখানে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শিশুটির মা। সেই সঙ্গে দেওয়া হয় হুমকিও।
স্থানীয় যুবদল নেতা জালাল মাতব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে শিশুটির মা স্টার নিউজকে জানান, ‘তখন তিনি বলছিলেন, ‘তোমাকে হাজার বিশেক টাকা দিয়ে দিই। তুমি চুপচাপ থাকবে, এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলবে না এবং কোনো বাড়াবাড়িও করবে না।’ তখন আমি বলেছি, ‘তোমরা কী বলছ? একটি শিশুর ইজ্জত নষ্ট করা হয়েছে! মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়ে যদি এর সমাধান করা যায়, তাহলে তো এলাকার সবাই এমন কাজ করবে।’
এ ঘটনায় আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। ভোলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত কামালকে। শিশুটির মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
তবে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি নেয়া হয়েছে এবং তার মেডিকেল পরীক্ষাও করানো হয়েছে। বর্তমানে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তকে বাঁচাতে তৎপরতা দেখানোর অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে আদাবর ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক জালাল মাতব্বরকে। ঘটনা মীমাংসার উদ্যোগ নেয়ার কথা স্বীকার করলেও নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আদাবর ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক জালাল মাতব্বর জানান, ‘আমাদের মসজিদের একজন ইমাম সাহেব আছেন; তিনি বলছেন, ‘ওকে বাঁচান, কারণ ও ভালো মানুষ।’ এটা নাটক। কয়েক দিন আগে আলমাস ১ লাখ টাকা নিয়েছে। এ কারণে আবার ওই টাকা নেওয়ার জন্য সে এলাকা থেকে চলে যায়।’
জালালের ছোট ভাই নয়ন আদাবর থানা ছাত্রদলের সভাপতি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই ভাই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেন। এদিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে নয়নের ছবি এসেছে স্টার নিউজের হাতে।
জালাল মাতব্বর আরও বলেন, ‘না, না, এমন প্রশ্নই আসে না। আমাকে ফাঁসানোর জন্যই এসব করা হচ্ছে। আমি থানা কমিটির সেক্রেটারি পদপ্রার্থী। এ কারণেই তারা এমনভাবে এডিট করছে, যাতে আমি কোনোভাবেই আসতে না পারি।’
এদিকে মামলা দায়েরের পর নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে ভুক্তভোগী পরিবারের।
