কী অবস্থা WTC-র অঙ্কের?ছবি: সংগৃহীত
Published on
:
3 min read
প্রথম টেস্টে ২০০-রও বেশি রানে হারের ধাক্কা সামলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa)। গকেবেরহার সেন্ট জর্জেস পার্কে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে (Australia) এক ইনিংস ও ৩১ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ়ে ১-১ করল প্রোটিয়ারা। এই জয়ের নেপথ্যে অধিনায়ক তেম্বা বাভুমার (Temba Bavuma) দুরন্ত ১৭৯ রানের ইনিংস। এক সময় ৪০ রানে চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে বাভুমার লড়াই এবং বোলারদের দাপটে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেয় তারা। এই হারের পরেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। অন্য দিকে, জয়ে ফিরেও তিন নম্বরেই রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
বাভুমার ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াল দক্ষিণ আফ্রিকা
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সারির ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেছিল তারা। এক সময় ৪০ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ঘরের দল। সেই পরিস্থিতিতে হাল ধরেন অধিনায়ক বাভুমা। মার্কো জানসেনের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১৩২ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করেন তিনি। ১০০ বলে ৮৫ রান করেন জানসেন। এর পর অষ্টম উইকেটে সাইমন হার্মারের সঙ্গে আরও ১৮২ রান যোগ করেন বাভুমা। হার্মারের ব্যাট থেকে আসে ৮২ রান। অন্য দিকে, এক প্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক। ৩৩৪ বলে ১৭৯ রান করে নবম ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। তাঁর এই ইনিংসের সৌজন্যেই প্রথম ইনিংসে বড় রান তুলতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
হেডের শতরানেও বাঁচল না অস্ট্রেলিয়া
দক্ষিণ আফ্রিকার বড় রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। একের পর এক উইকেট হারিয়ে কোনও প্রতিরোধই গড়তে পারেননি অজ়ি ব্যাটাররা। পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধস নামান জানসেন। ফলে ফলো-অন করতে বাধ্য হয় প্যাট কামিন্সের দল। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। ট্র্যাভিস হেড ১২১ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন। মার্নাস লাবুশেন করেন ৩৯ রান। তবে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের আটকে রাখেন স্কট বোল্যান্ড। ১৬৬ বল খেলে ৪০ রান করেন তিনি। পঞ্চম দিনের দুই সেশন ধরে ক্রিজে টিকে থেকে প্রতিপক্ষের বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেন বোল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত উইয়ান মুল্ডারের দুর্দান্ত বলে তাঁর লড়াই থামে।
বোল্যান্ড আউট হওয়ার পর দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক কামিন্সকেও ফিরিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ দিকে অ্যালেক্স ক্যারি ৩৭ রান করলেও অন্য প্রান্ত থেকে যথেষ্ট সাহায্য পাননি। ২৯৫ রানে শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে এক ইনিংস ও ৩১ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজ়ে সমতা ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকা। কেপটাউনে তৃতীয় টেস্ট এখন দুই দলের কাছেই সিরিজ় জেতার শেষ সুযোগ।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় কী অবস্থা?
দ্বিতীয় টেস্টে হারলেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় এক নম্বরেই রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ১২টি টেস্ট খেলে ৯টিতে জয় ও তিনটিতে হারের সুবাদে তাদের পয়েন্ট ১০৮, পয়েন্ট পার্সেন্টেজ বা পিসিটি ৭৫ শতাংশ। ছ’টি টেস্টে চার জয়, এক হার ও এক ড্র নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউ জ়িল্যান্ড। তাদের পিসিটি ৭২.২২ শতাংশ। দক্ষিণ আফ্রিকাও ছ’টি টেস্টে চারটি জিতেছে, হেরেছে দু’টিতে। ৪৮ পয়েন্ট ও ৬৬.৬৭ শতাংশ পিসিটি নিয়ে তারা রয়েছে তিন নম্বরে।
তালিকায় চতুর্থ স্থানে বাংলাদেশ। ছ’টি টেস্টে তিন জয়, দু’টি হার ও একটি ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৪০, পিসিটি ৫৫.৫৬ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে থাকা ভারতের ১১টি টেস্টে পাঁচ জয়, চার হার ও দু’টি ড্র রয়েছে। ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে ভারতের পিসিটি ৫১.৫২ শতাংশ। ১৬টি টেস্টে সাত জয়, আট হার ও এক ড্র নিয়ে ইংল্যান্ড রয়েছে ছ’নম্বরে। তাদের পিসিটি ৩৮.৫৪ শতাংশ। শ্রীলঙ্কা ছ’টি টেস্টে একটি জয়, দু’টি হার ও তিনটি ড্রয়ে ২৪ পয়েন্ট এবং ৩৩.৩৩ শতাংশ পিসিটি নিয়ে সাত নম্বরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ১২টি টেস্টে দু’টি জয়, আটটি হার ও দু’টি ড্রয়ে ৩০ পয়েন্ট পেয়েছে, তাদের পিসিটি ২০.৮৩ শতাংশ। ন’টি টেস্টে দু’টি জয় ও সাতটি হারের পর ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শেষ স্থানে পাকিস্তান। তাদের পিসিটি ১৭.৫৯ শতাংশ।
অস্ট্রেলিয়া শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও দক্ষিণ আফ্রিকার এই জয় সিরিজ়ের লড়াই জমিয়ে দিয়েছে। কেপটাউনে তৃতীয় টেস্টে জিততে পারলে ঘরের মাঠে সিরিজ় জয়ের পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়েও নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার সুযোগ পাবে বাভুমার দল।