কালবেলা · স্বাস্থ্য
‘নেই’ দিয়ে চলছে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা
১৫/১০/২০২৬

হাসপাতালে আছে ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র, আছেন ডেন্টাল চিকিৎসকও। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর অভাবে মিলছে না এসব সেবা। ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন ৭০ জনেরও বেশি রোগী। অথচ ৩৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১১ জন, ২৫ জন নার্সের জায়গায় আছেন ১৬ জন। চিকিৎসক-নার্সের সংকট আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে এমনই বেহাল দশা হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। এতে চিকিৎসা নিতে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই অনুপাতে বাড়ানো হয়নি জনবল। চারজন কনসালট্যান্টসহ মোট ৩৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। গুরুত্বপূর্ণ মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে নেই চিকিৎসক। অন্যদিকে, ২৫ জন নার্সের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৬ জন। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের।
শুধু জনবল সংকটই নয়, চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে এ হাসপাতালে। ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম করার যন্ত্রপাতি থাকলেও এসব পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। ফলে যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে থাকছে, আর রোগীদের এসব পরীক্ষা করাতে হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১৮ জুন প্রথম ইসিজি যন্ত্র সরবরাহ করা হয়। পরে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আরও একটি ইসিজি যন্ত্র দেওয়া হয়। একই তারিখে, অর্থাৎ ২০১৪ সালের ১৮ জুন প্রথম আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র আসে হাসপাতালে। এরপর ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই সরবরাহ করা হয় আরও একটি যন্ত্র। তবে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এসব যন্ত্রের মাধ্যমে রোগীদের নিয়মিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, হাসপাতালে ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো না থাকায় দাঁতের চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে চিকিৎসক থাকার পরও এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী শামসুল আরেফিন বলেন, ‘লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট রয়েছে। ৩৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ১১ জন এবং ২৫ জন নার্সের বিপরীতে মাত্র ১৬ জন নার্স দিয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি পরিচালনা করতে হচ্ছে। শয্যার তুলনায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এত কমসংখ্যক জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রামের যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আবার ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে চিকিৎসক পদায়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। এসব ঘাটতি পূরণ করা না হলে লাখাই উপজেলার মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗