লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের পর নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। চলতি বছরের শেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে ঘরের মাঠে দুটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে নিজেদের মেসি-পরবর্তী অধ্যায় শুরু করবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) নিশ্চিত করেছে, আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে ল্যাটিন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। এরপর ১৭ নভেম্বর কর্দোবার মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।
গত ৬ অক্টোবর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে নিজের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। নিজের শেষ ম্যাচে একটি গোলের পাশাপাশি দুটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছিলেন তিনি। মেসির পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও জাতীয় দল থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। দুই সিনিয়র তারকার বিদায়ের পর দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারকা ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো; তাঁর নেতৃত্বেই এবার মাঠে নামবে দল।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে আর্জেন্টিনা। মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোর প্রীতি ম্যাচগুলোতে বড় ব্যবধানে জয় পায় লিওনেল স্কালোনির দল। মেসিকে ছাড়াই কর্দোবায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারানোর পর রিভার প্লেটের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় তারা। তরুণ ও নিয়মিত খেলোয়াড়দের এই সমন্বিত পারফরম্যান্স আক্রমণভাগে নতুন দিনের বার্তা দিচ্ছে।
এদিকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে তিনি বিদায়ের ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। বেনিন ম্যাচের পর স্কালোনি জানিয়েছেন যে সবকিছু ইতিবাচক থাকলে তিনি কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। জানা গেছে, পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে যাচ্ছে এএফএ। ফলে আসন্ন দুটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা শুরু করবেন এই কোচ।
আগামী বছরের মার্চে দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের ২০৩০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আর্জেন্টিনাকে সেই লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে না। শতবর্ষী আসর উপলক্ষে ২০৩০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচগুলো আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে যৌথভাবে আয়োজিত হবে; ফলে সহ-আয়োজক হিসেবে স্কালোনির দল সরাসরি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাই আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোকে নিজেদের স্কোয়াডের ভারসাম্য ও তরুণ প্রতিভাদের পরখ করে নেওয়ার মূল সুযোগ হিসেবে দেখছে আর্জেন্টিনা দল।
