কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ১০ জন পর্যটকের মধ্যে ৬ জনই আত্মীয় স্বজন। তারা সবাই খালাতো ভাইবোন। তাদের মধ্যে চারজন মেয়ে, দুজন ছেলে। ভয়াবহ আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে তাদের শরীর। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সন্তানদের মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি পরিবার।
আদরের সন্তানদের শেষবারের মতো দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন স্বজনরা। আর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা দিতে আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে গেছেন চার সন্তানের বাবাসহ স্বজনরা।
ছেলে মোহাম্মদ নাফিস ইসতেহামি ও মেয়ে ফারিহা কবিরের মরদেহ শনাক্ত করতে বরগুনা থেকে ঢাকায় গেছেন ৫৭ বছর বয়সী জেয়াদুল কবির। তার সঙ্গে গেছেন দুই মেয়ে ইশরাত জাহান মালিহা ও লায়লা জাহানের বাবা মো. মামুনুর রশিদ। সাত বছর বয়সী ছেলে ফাইজান নূরের মরদেহ শনাক্ত করতে গেছেন বাবা মো. নূরে আলম। আর মিথিলা মেহেজাবীন আরভীর জন্য রক্তের নমুনা দিতে গেছেন বাবা শাহজাহান। জেয়াদুল কবির, মামুনুর রশিদ ও শাহজাহান সম্পর্কে ভায়রা ভাই। নূরে আলম জেয়াদুল কবিরের জামাতা।
আরও পড়ুন
রক্তের নমুনা দিয়ে সিআইডি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় জেয়াদুল কবির ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের পরিবারের ছয়জনের লাশ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। সবাই পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ওদের লাশ কবে নাগাদ শনাক্ত হবে, তা এখনো বলতে পারছি না। এখান থেকে আশ্বাস দিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশ শনাক্ত করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে কত দিন লাগবে, তা বলতে পারছে না।
সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের তো আর আমরা ফিরে পাবো না কিন্তু তাদের মরদেহগুলো যেন যত দ্রুত সম্ভব আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয় সব কিছু সম্পন্ন করে।
এমএল/আরএফ
