সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সব সময়ই যে বড় উদ্যোগের প্রয়োজন হয়, এমনটি নয়। কারও মুখে হাসি ফোটানো, গাছ লাগানো কিংবা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো ছোট কাজও বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে। এই ভাবনাকে সামনে রেখে প্রতি বছর উদ্যাপিত হয় জাতীয় ‘মেক আ ডিফারেন্স ডে’ (National Make a Difference Day)। ‘ম্যাড ডে’ (MAD Day) নামেও পরিচিত এই দিবসে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন স্থানের লাখ লাখ মানুষ ও দল নিজেদের কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করেন।
দিবসটি উদ্যাপনের নানা উপায় রয়েছে। প্রতিবেশী, স্থানীয় সেবাকর্মী কিংবা প্রবীণদের হাতে তৈরি শুভেচ্ছা কার্ড দিয়ে আনন্দ দেয়া, গাছ লাগানো, এলাকার বাগান পরিচর্যা ও পরিবেশ পরিষ্কারের মতো কাজে অংশ নেয়া যায়। এ ছাড়া দাতব্য কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহ, ঘরে তৈরি খাবার বা হস্তশিল্প বিক্রি এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সহায়তা করেও দিবসটি পালন করা সম্ভব।
বাড়ির বাইরে যেতে না চাইলেও অনলাইনে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হওয়া যায়। অনলাইন কর্মশালা ও পরামর্শমূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ প্রচারের মাধ্যমে মানুষের উপকার করা সম্ভব। এসব কার্যক্রম দারিদ্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের মতো সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ও সংহতির বন্ধন দৃঢ় করে।
মেক আ ডিফারেন্স ডে-এর মূল বার্তা হলো, প্রত্যেক মানুষেরই নিজের কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সামর্থ্য রয়েছে। গাছ লাগানো, আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ কিংবা নিজের দক্ষতা অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার মতো প্রতিটি উদ্যোগই সম্মিলিতভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। দিবসটি স্বেচ্ছাসেবাকে শুধু দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং অন্যের উপকারে নিজের সময় ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবেও তুলে ধরে।
১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএ উইকেন্ড (USA Weekend) ম্যাগাজিন এই দিবসের সূচনা করে। এ উদ্যোগে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা পয়েন্টস অব লাইট (Points of Light)। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং স্বেচ্ছাসেবাকে উৎসাহিত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। সময়ের সঙ্গে দিবসটির পরিসর বেড়েছে। এর মাধ্যমে মানুষের সময়, শ্রম ও সম্পদের সম্মিলিত অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং সারা বছরই সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সূত্র: ডেজ অব দ্য ইয়ার
কে
