ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়ায় তেহরানের সমালোচনা করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা। খবর সিবিএস নিউজের।
তিনি অভিযোগ করেছেন, হুতি গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে ইরান নিজেই ইয়েমেনের যুদ্ধে একটি পক্ষ হয়ে উঠেছে। তাই মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়ার পরিবর্তে দেশটির উচিত ইয়েমেন থেকে নিজেদের অস্ত্র ও হস্তক্ষেপ সরিয়ে নেওয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত দীর্ঘ বিবৃতিতে আফরাহ আল-জুবা বলেন, ‘ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার কর্মকর্তারা যখন ইয়েমেনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন, তখন তারা মূলত হুতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শুরু হওয়া একটি যুদ্ধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিচ্ছেন। ইরানি শাসনব্যবস্থার সমর্থনেই ওই অভ্যুত্থান ঘটেছে। অস্ত্র, অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিশেষজ্ঞ সরবরাহের মাধ্যমে ইরানই এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তেহরান নিজেকে ইয়েমেনিদের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধের একটি পক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মধ্যস্থতার প্রস্তাব না দিয়ে তাদের উচিত ইয়েমেন থেকে নিজেদের প্রভাব ও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া, অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতি মেনে চলা।’
এর আগে শুক্রবার সৌদি আরবের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে তেহরান সৌদি আরবের ওপর হুতি হামলায় জড়িত, তা অস্বীকার করে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয় ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক বিশ্লেষক দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরান হুতি গোষ্ঠীকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্টের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আল-বাশা সিবিএস নিউজকে বলেন, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হুতিরা সবচেয়ে শক্তিশালী। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে, এর জবাবে হুতিরা কী পদক্ষেপ নিতে পারে।
সূত্র : সিবিএস নিউজ
