অধিনায়ক তো বটেই, বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিগার সুলতানা মানেই আরও অনেক কিছু। স্রেফ অধিনায়কত্ব ছাপিয়ে তিনি নেতা ও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন। এমনকি গত কয়েক বছরে এদেশের নারী ক্রিকেট মানেই অনেকটা হয়ে উঠেছিলেন তিনিই। সেই রাজত্বেই এবার সিংহাসন ভাগাভাগি হচ্ছে। নিগারের মতো এখন নাহিদা আক্তারও দেশের অধিনায়ক। বিসিবির আশা, নেতৃত্ব ভাগাভাগি হলেও দলে সমস্যা খুব একটা হবে না।
ছেলেদের ক্রিকেটে ভিন্ন সংস্করণে আলাদা অধিনায়ক হরহামেশাই দেখা যায়। বাংলাদেশ দলেই যেমন সাদা ও লাল বলে এখন ভিন্ন দুই অধিনায়ক। কিছু দিন আগে তিন সংস্করণে ছিলেন তিন অধিনায়ক। সেদিক থেকে এত দিন ব্যতিক্রম ছিল নারী দল। শুরু থেকেই অভিন্ন অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলেছে তারা। সেই ধারায় ছেদ টেনে এবার প্রথমবারের মতো দুই সংস্করণে ভিন্ন অধিনায়কের পথে হেঁটেছে বিসিবি। টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদা। ওয়ানডেতে আগের মতোই থাকছেন নিগার সুলতানা।
শুধু বাংলাদেশ নয়, মেয়েদের বিশ্ব ক্রিকেটে ভিন্ন সংস্করণে আলাদা অধিনায়কের নজির খুব একটা নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দুই সংস্করণে ভিন্ন ভিন্ন অধিনায়কের পরিকল্পনা কেমন হতে পারে সামনের দিনগুলোতে।
এছাড়া ভিন্ন সংস্করণে আলাদা অধিনায়কের নেতৃত্বে ড্রেসিং রুমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কাও থাকে। বিশেষ করে, নিগারের মতো প্রভাব বিস্তারি একজন যেহেতু এখনও একটি সংস্করণের অধিনায়ক। তবে সেসব নিয়ে দুর্ভাবনা নেই বিসিবির।
বিসিবি পরিচালক ও বোর্ডের নারী বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বললেন, সবকিছু মসৃণভাবে চলবে বলেই মনে করেন তারা।
“(দুই ফরম্যাটে দুই অধিনায়কে) অসুবিধা নেই। যেহেতু (নিগার) ছেড়ে দিয়েছে টি-টোয়েন্টি, তাই এটার জন্যই কাউকে দেখছিলাম আমরা। ওয়ানডেরত তো (নিগার সুলতানা) জ্যোতি আছেই, সে-ই থাকবে। কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা আশা করি, ড্রেসিং রুমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।”
গত মাসে এশিয়া কাপে ব্যর্থতার পর নিগার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এশিয়ান গেমসের পর আর টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করবেন না তিনি। পরে এশিয়ান গেমসেও ইতিবাচক কিছু করতে পারেনি বাংলাদেশ। দেশে ফিরে নেতৃত্ব ছাড়ার বিষয়ে বোর্ডের সঙ্গে আবার আলোচনা করেন তিনি।
পরে দুই পক্ষের সমঝোতায় নিগারের নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বিসিবি। তার জায়গায় আগামী এক বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নাহিদাকে। ২০২৩ সাল থেকে দুই সংস্করণেই সহ-অধিনায়ক ছিলেন বাঁহাতি এই স্পিনার।
রফিকুল বললেন, স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মেনেই এবার সহ-অধিনায়ক থেকে পূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদা।
“জ্যোতি টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছে এশিয়া কাপের সময়। নভেম্বরে যেহেতু ইমার্জিং নেশন্স কাপ আছে, সুতরাং একজনকে তো নিতেই হবে। তাই না? সেদিক থেকেই নাহিদাকে নিয়েছি। অনেক দিন ধরেই সে সহ-অধিনায়ক ছিল।”
নাহিদাকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান নিগার। দল ও দেশের প্রয়োজনে নাহিদাকে সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিও দেন বিদায়ী অধিনায়ক।
নারী বিভাগের প্রধানও জানালেন, নতুন অধিনায়ক বেছে নেওয়ার আগে উভয়পক্ষ থেকে সহযোগিতার বার্তা পেয়েছেন তারা।
“(নতুন অধিনায়ক ঠিক করার ব্যাপারে) এশিয়ান গেমস থেকে ফেরার পরই জ্যোতির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। এবারও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জ্যোতি ও নাহিদার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে আমার। সবাই সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়েই কথা বলেছে। আশা করি, কোনো সমস্যা হবে না।”
থাইল্যান্ডে আগামী মাসে আইসিসি উইমেন’স ইমার্জিং নেশন্স ট্রফি খেলবে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান। ১২ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে শুরু হবে নাহিদার নতুন অধ্যায়।
