নেত্রকোণার দুর্গাপুরে গুলি করে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে নেত্রকোণা সাংবাদিক সমাজ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিকেরা যেন নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিক হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার বিচারহীনতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯টার দিকে ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।
মামলা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাখের আহমেদ জানান, ঘটনার পর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে এসআরবি, পিবিআই, থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক দল সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে নিহত সাংবাদিকের ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় আটকে থাকা গুলিটি উদ্ধার করা হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, আলিফের বুকে তিনটি গুলির আঘাত ছিল। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এ ছাড়া একটি গুলি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। অন্য দুটি গুলির একটি মাথার ওপরের অংশে এবং আরেকটি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে চলে যায়।
গুলির ক্ষত বিশ্লেষণ করে চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন, আলিফকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছিল।
হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৩২) বেসরকারি আইপি টেলিভিশন ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোণা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় দোকানে বসে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরদিন শুক্রবার তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেন এবং
আজ শনিবার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন সাংবাদিকেরা। সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু বিচার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজ ও নিহতের স্বজনেরা।
