কালবেলা · সাধারণ
সমবায় সমিতির ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, থানা ঘেরাও
২২/১০/২০২৬

শরীয়তপুরে আংগারিয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আমানতের টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত না পেয়ে সমিতির কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশত গ্রাহক।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে সদর উপজেলার আংগারিয়ার বাগচি বাজার এলাকায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ করেন তারা। একপর্যায়ে সমিতির কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের ভেতরে আটকে রাখেন গ্রাহকরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমিতির প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া আনুমানিক ২০ কোটি টাকা দীর্ঘদিন ধরে ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। অনেকের আমানতের মেয়াদ শেষ হলেও টাকা ও লভ্যাংশ পরিশোধ না করে সমিতির কর্মকর্তারা টালবাহানা করছেন। এমনকি গ্রাহকদের টাকা নিয়ে সমিতির কর্মকর্তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে গ্রাহকদের তোপের মুখে সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার, নির্বাহী পরিচালক কাকলী আক্তার ও তাদের সহযোগী দিপু মোল্লাকে থানা হেফাজতে নেয় পালং মডেল থানা পুলিশ।
এদিকে তাদের থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকশ গ্রাহক থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে তারা টাকা ফেরতের দাবিতে থানার সামনে অবস্থান করেন।
পরে গ্রাহকদের টাকা ফেরতের শর্তে সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদারকে থানার জিম্মায় রাখা হয়। একইসঙ্গে নির্বাহী পরিচালক কাকলী আক্তার ও সহযোগী দিপু মোল্লাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী গ্রাহক সেলিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী ভিক্ষা করে টাকা জমাইছে সেই টাকা এখানে রাখছি। এখন আমার স্বামীর অপারেশন হবে কিন্তু তারা টাকা দিতাছে না। আমি আমার টাকা ফেরত চাই।
আরেক ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া বেগম বলেন, আমার ছেলেদের ভবিষ্যতের জন্য আমি ৪টা ডিপোজিট করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি একটা টাকা পাই নাই। তারা টাকা নেওয়ার সময় কতো মিষ্টি কথা বলে টাকা নেয় কিন্তু দেওয়ার সময় টাকা তো দেয়ই না উল্টা খারাপ ব্যবহার করে।
অভিযুক্ত সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার বলেন, আমাদের সমিতির কয়েকজন কর্মচারী অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ছিল, তাই ওদের কয়েকজনকে বের করে দিছি। এজন্য ওরা চক্রান্ত করে গ্রাহকদের বলেছে আমরা তাদের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবো। তাই তারা একসঙ্গে টাকা নেওয়ার জন্য এসেছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো গ্রাহকের টাকা না দেওয়ার কোনো অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে নেই। আমরা আগেও টাকা দিয়েছি এখনো দিচ্ছি, সামনেও দিব।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, স্বপন হাওলাদার গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রাহকরা তাদের আটকে রাখে। পরে আমরা তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। এরপর গ্রাহকদের প্রতিনিধি ও অভিযুক্তকে নিয়ে আলোচনা করে কয়েক দফায় টাকা পরিশোধ করার সিদ্ধান্তে আসি।
তিনি আরও বলেন, টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত আমরা চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদারকে আমাদের জিম্মায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বাকি দুজনকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ছেড়ে দিয়েছি। যদি সে টাকা ফেরত না দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗